ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ কেন ব্যর্থ? নির্মাতার বিস্ফোরক ব্যাখ্যা

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘প্রিন্স’ দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি শাকিব ভক্তদের একাংশও সিনেমাটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি প্রযোজকের পকেটে মাত্র তিন কোটি টাকা এনে দিয়েছে, যা সিনেমার প্রচারণাতেই খরচ হয়ে গেছে। সিনেমাটির লেখক ও নির্মাতা মেসবাহ উদ্দিন সুমন সম্প্রতি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সিনেমাটি ‘নষ্ট’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

সুমন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘শাকিব খানকে গল্প শোনানোর সময় ক্লাইম্যাক্সের দিকে আমি একটু থেমে গিয়েছিলাম। উনি এক্সাইটমেন্টে জাস্ট উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেন, তারপরে…? পুরো গল্প শুনে উনি চুপ করেছিলেন পাঁচ মিনিট। তিন দিন পরে আমাকে ডেকে পুরো সিন বাই সিন উনি কীভাবে অভিনয় করবেন দেখাচ্ছিলেন। একবার শুনেছেন গল্প তাতেই সব উনার মনে আছে। উনি আপদমস্তক একটা ফিল্ম। আমাকে বলতেন, ‘ভাই স্ক্রিপ্ট ব্রাশ আপ করতে থাকেন। দেখবেন সেই হয়ে যাবে।’

গল্পের প্লট প্রসঙ্গে সুমন জানান, ‘৯০ দশকের সেই সময়ের বিভিন্ন গ্যাংস্টারদের কাছ থেকে শুনে শুনে, কিছু নিজের চোখে দেখে দেখে গ্যাংস্টারদের লাইফ নিয়ে এই গল্পটি তৈরি করেছিলাম ২০১৮ সালে। নানা রকমভাবে এর চিত্রনাট্যও লেখা হয়েছিল।’ এরপর তিনি সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে পরিচালকের অস্পষ্টতা ও ভিন্নধর্মী ধারণার ওপর আলোকপাত করেন। সুমন বলেন, ‘কিন্তু কে জানত পরিচালকের মাথায় একটা তুফান-২ ঢুকে ছিল। এখনতো বুঝি তার মিনিমাম কোনো ভিজ্যুয়াল ছিল না। শুরু থেকেই সে কনফিউজড ছিল। একে তাকে ধরে আনতো গল্প শোনানোর জন্য। মোটামুটি ২৫-৩০ জনকে আমি গল্প শুনিয়েছি। স্ক্রিপ্ট রাইটার নাজিমউদ্দৌলা ভাইতো পুরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। উনি বিরক্তিতে আসত না। খালি বলতো এই ছেলেতো ভীষণ কনফিউজড। একদিন আমাকে হায়াত (প্রিন্স ছবির নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ) বলে হিরো সবসময় পিয়ানো বাজাবে তার পিয়ানো থেকে গুলি বের হয় এমন একটা জিনিস করেন। আমি আর নাজিম ভাই হাসা শুরু করলাম। বললাম না না ভাই এটা কইরেন না। লোকে হাসবে। সে খুব কনফিডেন্ট। না না, দেখবেন নতুন কিছু হবে। তারপরে আরেকদিন বলে শুনেন আফগানী পাঠানের সঙ্গে সব সময় মুরগি থাকে। আমি বললাম ভাই ভিলেনের হাতে থাকবে মুরগি? এটা হইলো কিছু? তার চেয়ে এখানে সেই সময়ের বিখ্যাত সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের ক্যারেক্টার তো আছেই। সেখানে দরকারে মুরগি রাখেন। সে বলে, না, আফগানী পাঠানের কোলে মুরগি রাখবেই। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে নাজিম ভাই বলল, ভাই এই ছেলে স…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ কেন ব্যর্থ? নির্মাতার বিস্ফোরক ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ০৯:৩১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘প্রিন্স’ দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি শাকিব ভক্তদের একাংশও সিনেমাটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি প্রযোজকের পকেটে মাত্র তিন কোটি টাকা এনে দিয়েছে, যা সিনেমার প্রচারণাতেই খরচ হয়ে গেছে। সিনেমাটির লেখক ও নির্মাতা মেসবাহ উদ্দিন সুমন সম্প্রতি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে সিনেমাটি ‘নষ্ট’ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

সুমন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘শাকিব খানকে গল্প শোনানোর সময় ক্লাইম্যাক্সের দিকে আমি একটু থেমে গিয়েছিলাম। উনি এক্সাইটমেন্টে জাস্ট উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেন, তারপরে…? পুরো গল্প শুনে উনি চুপ করেছিলেন পাঁচ মিনিট। তিন দিন পরে আমাকে ডেকে পুরো সিন বাই সিন উনি কীভাবে অভিনয় করবেন দেখাচ্ছিলেন। একবার শুনেছেন গল্প তাতেই সব উনার মনে আছে। উনি আপদমস্তক একটা ফিল্ম। আমাকে বলতেন, ‘ভাই স্ক্রিপ্ট ব্রাশ আপ করতে থাকেন। দেখবেন সেই হয়ে যাবে।’

গল্পের প্লট প্রসঙ্গে সুমন জানান, ‘৯০ দশকের সেই সময়ের বিভিন্ন গ্যাংস্টারদের কাছ থেকে শুনে শুনে, কিছু নিজের চোখে দেখে দেখে গ্যাংস্টারদের লাইফ নিয়ে এই গল্পটি তৈরি করেছিলাম ২০১৮ সালে। নানা রকমভাবে এর চিত্রনাট্যও লেখা হয়েছিল।’ এরপর তিনি সিনেমাটি ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে পরিচালকের অস্পষ্টতা ও ভিন্নধর্মী ধারণার ওপর আলোকপাত করেন। সুমন বলেন, ‘কিন্তু কে জানত পরিচালকের মাথায় একটা তুফান-২ ঢুকে ছিল। এখনতো বুঝি তার মিনিমাম কোনো ভিজ্যুয়াল ছিল না। শুরু থেকেই সে কনফিউজড ছিল। একে তাকে ধরে আনতো গল্প শোনানোর জন্য। মোটামুটি ২৫-৩০ জনকে আমি গল্প শুনিয়েছি। স্ক্রিপ্ট রাইটার নাজিমউদ্দৌলা ভাইতো পুরা বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। উনি বিরক্তিতে আসত না। খালি বলতো এই ছেলেতো ভীষণ কনফিউজড। একদিন আমাকে হায়াত (প্রিন্স ছবির নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ) বলে হিরো সবসময় পিয়ানো বাজাবে তার পিয়ানো থেকে গুলি বের হয় এমন একটা জিনিস করেন। আমি আর নাজিম ভাই হাসা শুরু করলাম। বললাম না না ভাই এটা কইরেন না। লোকে হাসবে। সে খুব কনফিডেন্ট। না না, দেখবেন নতুন কিছু হবে। তারপরে আরেকদিন বলে শুনেন আফগানী পাঠানের সঙ্গে সব সময় মুরগি থাকে। আমি বললাম ভাই ভিলেনের হাতে থাকবে মুরগি? এটা হইলো কিছু? তার চেয়ে এখানে সেই সময়ের বিখ্যাত সন্ত্রাসী মুরগি মিলনের ক্যারেক্টার তো আছেই। সেখানে দরকারে মুরগি রাখেন। সে বলে, না, আফগানী পাঠানের কোলে মুরগি রাখবেই। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে নাজিম ভাই বলল, ভাই এই ছেলে স…’