ঢাকা ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সড়কমন্ত্রীর জবাবে অসন্তুষ্ট এমপি, ‘আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রীদের মতোই উত্তর’

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া জবাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া উত্তরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘হতাশ হলাম। আওয়ামী লীগের সময় মন্ত্রীরা যে উত্তর দিতেন, মন্ত্রী মহোদয় সেই উত্তরই দিয়েছেন।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনাকালে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, সড়ক প্রকল্পে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হলো না? ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।’

মন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় বললেন ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে—এ রবীন্দ্রসংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমতো মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারা শিখিয়ে দিয়েছে—সেটাই তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।’

জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে ও বাজেট সমন্বয় করে কাজ করতে পারছি। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে যা জ্ঞাত করেছেন, সে বিষয়ে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।’

একপর্যায়ে স্পিকার মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।

এর আগে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ প্রস্তাবে বলা হয়, কুমিল্লায় পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে ‘দানবীয় ব্যারিকেড’ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার প্রবেশপথে টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মিত না হওয়ায় স্থানটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনায় ওই অঞ্চলে তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড় প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

সড়কমন্ত্রীর জবাবে অসন্তুষ্ট এমপি, ‘আওয়ামী লীগ আমলের মন্ত্রীদের মতোই উত্তর’

আপডেট সময় : ০৮:২০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া জবাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি মন্ত্রীর বক্তব্যকে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া উত্তরের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘হতাশ হলাম। আওয়ামী লীগের সময় মন্ত্রীরা যে উত্তর দিতেন, মন্ত্রী মহোদয় সেই উত্তরই দিয়েছেন।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) স্পিকারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনাকালে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, সড়ক প্রকল্পে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হলো না? ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।’

মন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় বললেন ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে—এ রবীন্দ্রসংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমতো মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারা শিখিয়ে দিয়েছে—সেটাই তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।’

জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে ও বাজেট সমন্বয় করে কাজ করতে পারছি। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে যা জ্ঞাত করেছেন, সে বিষয়ে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।’

একপর্যায়ে স্পিকার মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।

এর আগে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ প্রস্তাবে বলা হয়, কুমিল্লায় পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে ‘দানবীয় ব্যারিকেড’ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার প্রবেশপথে টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মিত না হওয়ায় স্থানটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনায় ওই অঞ্চলে তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ চলছে।