বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে, বিএনপি তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও জানান যে, ১৭ বছর ধরে মানুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং সংস্কারের পরিকল্পনা তাদের ৩১ দফার মধ্যেই নেওয়া হয়েছে। কিছু মহল সবকিছু ভুলভাবে উপস্থাপন করে অযথা সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার রাজধানীর রমনায় ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনাইটেড ফোরাম অব চার্চেস বাংলাদেশ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপস বিজয় এন ডি ক্রুজ-এর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডেভিড অনুরুদ্ধ দাস এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবু সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল একটি মানবিক দেশ গড়ার সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি শান্তি চায় এবং বাংলাদেশকে একটি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধনী দেশ নয় এবং ধনী দেশ হতেও চায় না। তারা শুধু রাজনীতির জন্য রাজনীতি করতে চায় না, বরং মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চায়। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আজ একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করে আমরা নতুন সময়ে প্রবেশ করেছি। এই সময়টি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাঁরা একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সাম্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন করতে আগ্রহী।
এসময় তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও অস্বীকার করে। তিনি ঘৃণা শব্দটিকে সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় দিয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যকে আগামীর পথ চলার শক্তি হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক কারণে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মকে ধারণ করেছে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও এখানে মিশে আছে।
রিপোর্টারের নাম 





















