ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

‘বড়লোকরা রাজস্ব ফাঁকিঝুঁকি জানে, সরকারি ছত্রছায়ায় থাকারা কম দেয়’—হুইপ নিজান

জাতীয় সংসদের হুইপ এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের ধনী ব্যক্তিরা এবং যারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পান, তারা তুলনামূলকভাবে কম রাজস্ব প্রদান করেন। তার মতে, সাধারণ জনগণ ও গরিব মানুষই দেশের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যোগান দেয়।

শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেন মাঠে আয়োজিত ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। হুইপ নিজান বলেন, “বড়লোকরা ফাঁকিঝুঁকি জানে, কিভাবে রাজস্ব-ট্যাক্স কম দিতে হয়। মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা ভয় করে, কোনো সমস্যায় পড়ে যায়। কিন্তু যারা সরকারি ছত্রছায়ায় থাকে, তারা ভয় করে না, তারা তো বড় হয়ে গেছে।”

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুইপ বলেন, শুধু মুখে বললে হবে না, সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। তিনি স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং শিক্ষকদের আপাতত শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করতে বলেন, রাজনীতির জন্য ভোটের তিন মাস আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে সম্মাননা পদক প্রদানের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জনগণ অজান্তেই নিজেদের ক্ষমতা সরকারের হাতে তুলে দেয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আয়োজকরা যে কাজ করছেন, তা যদি ইউএনও সাহেব গ্রহণ করেন, তবে কি তারা আগের মতো কাজ করতে পারবেন? তিনি বলেন, সরকার সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু সবকিছু সরকারীকরণ হয়ে গেলে নিজস্বতা থাকবে না।

সাইনরাইজ ক্লাবের সভাপতি ওসমান গনি বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং চন্দ্রগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক আনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম, কমলনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের ও সেক্রেটারি আকরাম হোসেন প্রমুখ। সানরাইজ ক্লাবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’, ৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা এবং ১৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে মেট্রোরেলের শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকছে

‘বড়লোকরা রাজস্ব ফাঁকিঝুঁকি জানে, সরকারি ছত্রছায়ায় থাকারা কম দেয়’—হুইপ নিজান

আপডেট সময় : ০৯:১৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদের হুইপ এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের ধনী ব্যক্তিরা এবং যারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পান, তারা তুলনামূলকভাবে কম রাজস্ব প্রদান করেন। তার মতে, সাধারণ জনগণ ও গরিব মানুষই দেশের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যোগান দেয়।

শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেন মাঠে আয়োজিত ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। হুইপ নিজান বলেন, “বড়লোকরা ফাঁকিঝুঁকি জানে, কিভাবে রাজস্ব-ট্যাক্স কম দিতে হয়। মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা ভয় করে, কোনো সমস্যায় পড়ে যায়। কিন্তু যারা সরকারি ছত্রছায়ায় থাকে, তারা ভয় করে না, তারা তো বড় হয়ে গেছে।”

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুইপ বলেন, শুধু মুখে বললে হবে না, সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। তিনি স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং শিক্ষকদের আপাতত শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করতে বলেন, রাজনীতির জন্য ভোটের তিন মাস আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে সম্মাননা পদক প্রদানের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, জনগণ অজান্তেই নিজেদের ক্ষমতা সরকারের হাতে তুলে দেয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আয়োজকরা যে কাজ করছেন, তা যদি ইউএনও সাহেব গ্রহণ করেন, তবে কি তারা আগের মতো কাজ করতে পারবেন? তিনি বলেন, সরকার সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু সবকিছু সরকারীকরণ হয়ে গেলে নিজস্বতা থাকবে না।

সাইনরাইজ ক্লাবের সভাপতি ওসমান গনি বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং চন্দ্রগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক আনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম, কমলনগর উপজেলা বিএনপি সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের ও সেক্রেটারি আকরাম হোসেন প্রমুখ। সানরাইজ ক্লাবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে ৯ জন গুণী ব্যক্তিকে ‘কমলনগর গর্ব সম্মাননা পদক’, ৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা এবং ১৪ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।