ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত ১৬ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখা থেকে ভারতীয় পুলিশকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা নিরবতা পালন করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় এই দুই আসামিকে ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। কূটনৈতিক চ্যানেলে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশটির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ, যা পরে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা দিল্লির এনআইএ হেফাজতে ট্রানজিট রিমান্ডে রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে জুমার নামাজের পর প্রকাশ্য দিবালোকে রিকশায় থাকা অবস্থায় শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হাদিকে সরাসরি গুলি করেছিল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম, যাকে সহযোগিতা করেছিল যুবলীগ কর্মী আলমগীর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী তাইজুল ইসলামও বর্তমানে ভারতে আত্মগোপন করে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রধান দুই আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ‘গডফাদার’ বা নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে। ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সে সময় দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভারতকে দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা হাদি হত্যার ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























