ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশেই উৎপাদন সত্ত্বেও পেট্রোল-অকটেন সংকট: কারণ উদঘাটন

তেলের অভাবে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যায় ফারুক মোল্লার মতো অনেক চালককে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা জ্বালানি তেল পেয়েছেন। ৩০ বছরের চালকের জীবনে এমন সংকট আগে কখনো দেখেননি বলে জানান ফারুক মোল্লা।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। সড়কের উল্টো দিকের আরেকটি ফিলিং স্টেশন দুপুর পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ ছিল, তবে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও বর্তমানে শহর ও গ্রামে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক পেট্রোল পাম্প হিমশিম খাচ্ছে এবং বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধও হয়ে যাচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় পেট্রোল-অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। সিলেটে গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে দেশের পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা হয়।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন এবং অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। নিজস্ব উৎপাদন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া, মোট চাহিদার প্রায় চার ভাগের একভাগ অকটেনও উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও দেশে পেট্রোল-অকটেনের সংকট হওয়ার কথা নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

দেশেই উৎপাদন সত্ত্বেও পেট্রোল-অকটেন সংকট: কারণ উদঘাটন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

তেলের অভাবে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার আসাদগেটের একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যায় ফারুক মোল্লার মতো অনেক চালককে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারা জ্বালানি তেল পেয়েছেন। ৩০ বছরের চালকের জীবনে এমন সংকট আগে কখনো দেখেননি বলে জানান ফারুক মোল্লা।

‘সোনার বাংলা’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। সড়কের উল্টো দিকের আরেকটি ফিলিং স্টেশন দুপুর পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ না থাকায় বন্ধ ছিল, তবে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হলেও বর্তমানে শহর ও গ্রামে অকটেন ও পেট্রোলের জন্য তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক পেট্রোল পাম্প হিমশিম খাচ্ছে এবং বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধও হয়ে যাচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনায় পেট্রোল-অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। সিলেটে গ্যাস উত্তোলনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে দেশের পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করা হয়।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন এবং অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। নিজস্ব উৎপাদন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া, মোট চাহিদার প্রায় চার ভাগের একভাগ অকটেনও উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও দেশে পেট্রোল-অকটেনের সংকট হওয়ার কথা নয়।