ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জেলা পরিষদ: উন্নয়ন না পুনর্বাসনের ফাঁদ?

স্থানীয় সরকারের অধীনে জেলা পরিষদের ধারণাটি নতুন নয়, বরং এর ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভাইসরয় লর্ড রিপনের ‘Local Self Government Resolution 1882’-এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি জেলা বোর্ড, জেলা কাউন্সিলে রূপান্তরিত হয় এবং স্বাধীনতার পর আবার জেলা বোর্ড নামে ফিরে আসে। ১৯৭৫ সালে জেলা গভর্নর পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জেলা বোর্ডকে উন্নয়নের একটি স্বাধীন কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হলেও, পদ্ধতিটি আলোর মুখ দেখার আগেই অকার্যকর হয়ে পড়ে।

১৯৭৬ সালে ‘জেলা পরিষদ’ নামটি পুনরায় ফিরে আসে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৮৮ সালে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রেখে একটি আইন পাস হয়। তবে, আইনে নির্বাচন পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও, সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং দলীয় আনুগত্যই মুখ্য হয়ে ওঠে। এরশাদ সরকার এই নীতির ভিত্তিতে সারা দেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করে, যারা জনগণের করের টাকায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও, তাদের দ্বারা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা পরিষদ আইন বাতিল করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানটি আমলাতন্ত্রের হাতে চলে যায়।

সর্বশেষ, ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় জেলা পরিষদ আইন পাস করে। তবে, সরকারের ধারাবাহিকতার অভাবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটিও অকার্যকর ছিল। পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে এই আইনটি পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

জেলা পরিষদ: উন্নয়ন না পুনর্বাসনের ফাঁদ?

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকারের অধীনে জেলা পরিষদের ধারণাটি নতুন নয়, বরং এর ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভাইসরয় লর্ড রিপনের ‘Local Self Government Resolution 1882’-এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি জেলা বোর্ড, জেলা কাউন্সিলে রূপান্তরিত হয় এবং স্বাধীনতার পর আবার জেলা বোর্ড নামে ফিরে আসে। ১৯৭৫ সালে জেলা গভর্নর পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জেলা বোর্ডকে উন্নয়নের একটি স্বাধীন কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হলেও, পদ্ধতিটি আলোর মুখ দেখার আগেই অকার্যকর হয়ে পড়ে।

১৯৭৬ সালে ‘জেলা পরিষদ’ নামটি পুনরায় ফিরে আসে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৮৮ সালে পরোক্ষ নির্বাচনের বিধান রেখে একটি আইন পাস হয়। তবে, আইনে নির্বাচন পদ্ধতির উল্লেখ থাকলেও, সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং দলীয় আনুগত্যই মুখ্য হয়ে ওঠে। এরশাদ সরকার এই নীতির ভিত্তিতে সারা দেশে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করে, যারা জনগণের করের টাকায় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও, তাদের দ্বারা দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন জনগণের কাছে পৌঁছায়নি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা পরিষদ আইন বাতিল করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানটি আমলাতন্ত্রের হাতে চলে যায়।

সর্বশেষ, ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় জেলা পরিষদ আইন পাস করে। তবে, সরকারের ধারাবাহিকতার অভাবে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটিও অকার্যকর ছিল। পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে এই আইনটি পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।