একসময় সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত মফস্বল সাংবাদিকতা আজ নানা সংকট আর বিতর্কের জালে আবদ্ধ। ভাঙা রাস্তা, নদীভাঙন, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা কিংবা সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা—এসব বিষয় স্থানীয় পর্যায় থেকে মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মফস্বল সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এই পেশাটি আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে, যার ফলে একদিকে প্রকৃত সাংবাদিকরা যেমন বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সাংবাদিকতা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে মফস্বল সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তথাকথিত ‘কার্ডধারী’ সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণ। স্মার্টফোন হাতে, গলায় ‘সাংবাদিক’ লেখা পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে এরা নিজেদের পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও, এদের অনেকেরই নেই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা, সাংবাদিকতার মৌলিক জ্ঞান বা পেশাগত নৈতিকতা। এই পরিচয়পত্রের আড়ালে একটি গোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পাড়া-মহল্লা, বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা বা সরকারি অফিসে এদের উপস্থিতি এখন প্রায়ই চোখে পড়ে। কোনো জমি বিবাদ, ছোটখাটো অনিয়ম বা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত হাজির হয়ে এরা সমস্যা সমাধানের নামে বা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে শুরু করে দেনদরবার। এর ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারাও প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে এক ধরনের ভীতি ও প্রভাবের সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো সাংবাদিক পরিচয়পত্রের সহজলভ্যতা। নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল বা অচেনা কিছু সংবাদমাধ্যম থেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে আইডি কার্ড সংগ্রহ করা এখন অত্যন্ত সহজ। কয়েকশ বা হাজার টাকার বিনিময়ে যে কেউ রাতারাতি ‘সাংবাদিক’ হয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নিজেরাই সংগঠন গড়ে পদ-পদবি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, যা মফস্বল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























