ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও বিরোধী নেতার ক্ষোভ: গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও বাস্তবতা

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের “গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা”—এই মন্তব্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে গভীরভাবে আহত করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের চেয়ার থেকে এমন মন্তব্য আশা করেননি বলে জানিয়েছেন। গণতন্ত্রের সর্বজনীন সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এই ধারণার ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মত রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্রকে এমন এক শাসনব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যেখানে জনগণই ক্ষমতার মালিক। সহজ ভাষায়, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে।

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন। কোনো সমাজে গণতন্ত্রের চর্চা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা বুঝতে তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়: জনগণের হাতে ক্ষমতা কতটুকু, রাজনৈতিক সমতা কতখানি এবং এমন সামাজিক রীতি যা প্রথম দুটিকে সমীহ করে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন পাস নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস হওয়া নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। বিরোধী দল অভিযোগ করেছে যে, সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে এবং ছলচাতুরীর মাধ্যমে বিল পাস করেছে। তারা আরও অভিযোগ করে যে, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সরকার সব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন ও আলোচনার সুযোগ দেয়নি। যদিও অনেকগুলো অধ্যাদেশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে দীর্ঘ দিন ধরে বাহাস ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিলে সংসদের সিলমোহর: রাজপথে নয়, লড়াই এবার উচ্চ আদালতে?

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও বিরোধী নেতার ক্ষোভ: গণতন্ত্রের সংজ্ঞা ও বাস্তবতা

আপডেট সময় : ১০:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের “গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা”—এই মন্তব্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে গভীরভাবে আহত করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের চেয়ার থেকে এমন মন্তব্য আশা করেননি বলে জানিয়েছেন। গণতন্ত্রের সর্বজনীন সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এই ধারণার ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মত রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্রকে এমন এক শাসনব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যেখানে জনগণই ক্ষমতার মালিক। সহজ ভাষায়, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে।

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন। কোনো সমাজে গণতন্ত্রের চর্চা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা বুঝতে তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়: জনগণের হাতে ক্ষমতা কতটুকু, রাজনৈতিক সমতা কতখানি এবং এমন সামাজিক রীতি যা প্রথম দুটিকে সমীহ করে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন পাস নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস হওয়া নিয়ে এই বিতর্কের সূত্রপাত। বিরোধী দল অভিযোগ করেছে যে, সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে এবং ছলচাতুরীর মাধ্যমে বিল পাস করেছে। তারা আরও অভিযোগ করে যে, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সরকার সব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন ও আলোচনার সুযোগ দেয়নি। যদিও অনেকগুলো অধ্যাদেশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে দীর্ঘ দিন ধরে বাহাস ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে।