ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিল্ডিং কোড মানতে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবন নির্মাণে ‘বিল্ডিং কোড’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে দুর্যোগ বিষয়ক বিষয় অন্তর্ভুক্তিকরণ, গবেষণা তহবিল গঠন এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে সম্ভাব্য ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। বৈঠকে ভূমিকম্প-পূর্ব প্রস্তুতি এবং পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম—উভয় ধাপে সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়াও, ভবন নির্মাণকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে: নিরাপদ ভবন (সবুজ চিহ্নিত), সংস্কারযোগ্য ভবন (হলুদ চিহ্নিত) এবং ঝুঁকিপূর্ণ/ধ্বংসযোগ্য ভবন (লাল চিহ্নিত)।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে ১৭৩টি ভবনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি। এগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীর ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) চালুর প্রস্তাব অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে কেবল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নয়, নির্মাতা ও ব্যবহারকারী—উভয় পক্ষের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কেবিনেটের অধীনে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সার্বিকভাবে মনিটরিং করবে। বৈঠকে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এক লাখ ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন মাস সময় চাওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে দুই মাসে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

বিল্ডিং কোড মানতে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবন নির্মাণে ‘বিল্ডিং কোড’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠকে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে দুর্যোগ বিষয়ক বিষয় অন্তর্ভুক্তিকরণ, গবেষণা তহবিল গঠন এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশে সম্ভাব্য ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। বৈঠকে ভূমিকম্প-পূর্ব প্রস্তুতি এবং পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম—উভয় ধাপে সমন্বিত পরিকল্পনার গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়াও, ভবন নির্মাণকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে: নিরাপদ ভবন (সবুজ চিহ্নিত), সংস্কারযোগ্য ভবন (হলুদ চিহ্নিত) এবং ঝুঁকিপূর্ণ/ধ্বংসযোগ্য ভবন (লাল চিহ্নিত)।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে ১৭৩টি ভবনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি। এগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীর ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) চালুর প্রস্তাব অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে কেবল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নয়, নির্মাতা ও ব্যবহারকারী—উভয় পক্ষের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কেবিনেটের অধীনে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সার্বিকভাবে মনিটরিং করবে। বৈঠকে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এক লাখ ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন মাস সময় চাওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে দুই মাসে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।