খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।
শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমবেত হন এবং পরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান নেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান আকাশ অভিযোগ করেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি প্রাইভেট কার রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত মৌমিতা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। ঘটনার পরদিন তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে জানানো হয়, ফুটেজ ডিলিট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড। প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হলেও এখনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
ঘেরাও স্থলে উপস্থিত খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মন্ডল জানান, প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী তিন দিনের মধ্যে পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হবে।
শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তি, লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নগরীতে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দাবিও উত্থাপন করেন। সমাবেশ শেষে তারা খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের হাজির করার আল্টিমেটাম দেন।
রিপোর্টারের নাম 




















