ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রিপেইড মিটারে দীর্ঘ টোকেন নম্বরের বিড়ম্বনা: গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সম্প্রতি এক নতুন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রিপেইড মিটার রিচার্জের জন্য দেওয়া টোকেন নম্বর এতদিন ২০ ডিজিটের হলেও, এখন তা বেড়ে ২২০ থেকে ২৫২ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। এর ফলে টাকা পরিশোধের পরও মিটারে বিদ্যুৎ ব্যালান্স যোগ করতে গিয়ে গ্রাহকদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক, কম শিক্ষিত এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত গ্রাহকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ এই টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হওয়ার কারণে অনেক গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না। ফলে, টাকা পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক সরদার আব্দুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ২৫২ ডিজিটের টোকেন নম্বরের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘গণিতের মহান শিক্ষক আমাদের নেসকো। এতগুলো সংখ্যা একে একে টিপে বিদ্যুৎ ফেরত আনতে হবে। এই বয়সে আর অঙ্ক করা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছে বাড়িতে একজন অঙ্কের শিক্ষক রাখতে হবে।’ তার এই পোস্টটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বহু গ্রাহক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

নগরীর রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আগে নিজের কাজ নিজেই করতে পারতাম। এখন একবার নম্বর দেই, আবার ভুল হয়। এতগুলো সংখ্যা লিখতে গিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে যায় এবং একাধিকবার লেখার পর সফল হয়েছি। একটি মিটার রিচার্জ করতে এত সময় লাগবে ভাবিনি।’ শালবাগান এলাকার মুয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘নিজে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও টাকা তুলতে পারিনি। পরে পাশের বাসার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেকে ডেকে এনে কাজটা করতে হয়েছে। বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, তার ওপর আবার নতুন ঝামেলা।’ নগরীর সুলতানাবাদ এলাকার ইসলাম উদ্দিনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি। প্রতিবারই কোথাও না কোথাও ভুল হচ্ছে। বাসায় বিদ্যুৎ নেই, বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খাতায় লিখে নম্বর মিলিয়ে আবার চেষ্টা করছি।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার জন্য তৈরি হলেও, কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন যদি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এমন ভোগান্তির কারণ হয়, তবে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

প্রিপেইড মিটারে দীর্ঘ টোকেন নম্বরের বিড়ম্বনা: গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রাজশাহীর বিদ্যুৎ গ্রাহকরা সম্প্রতি এক নতুন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রিপেইড মিটার রিচার্জের জন্য দেওয়া টোকেন নম্বর এতদিন ২০ ডিজিটের হলেও, এখন তা বেড়ে ২২০ থেকে ২৫২ ডিজিট পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। এর ফলে টাকা পরিশোধের পরও মিটারে বিদ্যুৎ ব্যালান্স যোগ করতে গিয়ে গ্রাহকদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক, কম শিক্ষিত এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত গ্রাহকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ এই টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ভুল হওয়ার কারণে অনেক গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না। ফলে, টাকা পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক সরদার আব্দুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ২৫২ ডিজিটের টোকেন নম্বরের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘গণিতের মহান শিক্ষক আমাদের নেসকো। এতগুলো সংখ্যা একে একে টিপে বিদ্যুৎ ফেরত আনতে হবে। এই বয়সে আর অঙ্ক করা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছে বাড়িতে একজন অঙ্কের শিক্ষক রাখতে হবে।’ তার এই পোস্টটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বহু গ্রাহক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

নগরীর রাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আগে নিজের কাজ নিজেই করতে পারতাম। এখন একবার নম্বর দেই, আবার ভুল হয়। এতগুলো সংখ্যা লিখতে গিয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে যায় এবং একাধিকবার লেখার পর সফল হয়েছি। একটি মিটার রিচার্জ করতে এত সময় লাগবে ভাবিনি।’ শালবাগান এলাকার মুয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘নিজে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও টাকা তুলতে পারিনি। পরে পাশের বাসার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেকে ডেকে এনে কাজটা করতে হয়েছে। বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, তার ওপর আবার নতুন ঝামেলা।’ নগরীর সুলতানাবাদ এলাকার ইসলাম উদ্দিনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি। প্রতিবারই কোথাও না কোথাও ভুল হচ্ছে। বাসায় বিদ্যুৎ নেই, বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খাতায় লিখে নম্বর মিলিয়ে আবার চেষ্টা করছি।’

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার জন্য তৈরি হলেও, কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন যদি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এমন ভোগান্তির কারণ হয়, তবে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।