বাংলাদেশে শিশুদের বিভিন্ন রোগের টিকা সরবরাহে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার পেছনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন অনেকে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মন্ত্রী ও নেতাদের একাংশ এই অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের জবাবদিহিতা চেয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী সরকারের ‘অদূরদর্শী’ পদক্ষেপের ফলেই বর্তমানে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটি পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো হলেও তা প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই গ্রহণ করা হয়। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।”
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করা হয়েছিল, যা ‘সেক্টর প্রোগ্রাম’ নামে পরিচিত। এই কর্মসূচির আওতায় খাদ্য-পুষ্টি, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য, সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ, কেনাকাটা এবং জনবল নিয়োগের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সেক্টর প্রোগ্রামের শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য কার্যক্রমের অধীনেই এতদিন দেশব্যাপী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হতো। এই কর্মসূচির আওতায় গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ এতদিন ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করত।
রিপোর্টারের নাম 



















