ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকার সামগ্রিক সংস্কারের বিরোধী, জনরায়কে সম্মান জানাচ্ছে না: শিশির মনির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জনরায়কে সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে নানা ধরনের দ্বিচারিতামূলক আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা শুধু ‘জুলাই সনদ’-এর বিরোধিতাই নয়, বরং তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংস্কারের বিপক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনরায়ের গুরুত্ব এবং সরকারের অবহেলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণ তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার তালবাহানা করছে। যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনরায়ের অমর্যাদা করার পরিণতি শুভ হয় না। অনতিবিলম্বে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে সরকারকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। একই সাথে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দুঃখজনক হলেও বিএনপির চরিত্র হচ্ছে জনগণের সাথে প্রতারণা করা। ঐতিহাসিকভাবে তারা জনগণের রায়কে ভয় পায়। যাদের জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, তারাই এখন গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

মোহাম্মদ শিশির মনির তার বক্তব্যে আইনি ও সাংবিধানিক দিক তুলে ধরে বলেন, ৭২-এর সংবিধান তৈরি হওয়ার পর প্রতিটি ক্ষমতাসীন দল সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা ও পরিবর্তন করে একটি স্থায়ী সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা যেন চোর-পুলিশ খেলার মতো একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এমনভাবে এককেন্দ্রিক করা হয়েছে যে, যদি তা বিকেন্দ্রীকরণ করা না যায়, তবে যেই-ই ক্ষমতায় আসুক, সে বাধ্য হবে গণতান্ত্রিকভাবে নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে। এই কারণেই ‘জুলাই সনদ’-এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কৃষিজমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলন, উদ্বেগ পরিবেশবাদীদের

সরকার সামগ্রিক সংস্কারের বিরোধী, জনরায়কে সম্মান জানাচ্ছে না: শিশির মনির

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জনরায়কে সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে নানা ধরনের দ্বিচারিতামূলক আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা শুধু ‘জুলাই সনদ’-এর বিরোধিতাই নয়, বরং তাদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংস্কারের বিপক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনরায়ের গুরুত্ব এবং সরকারের অবহেলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণ তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার তালবাহানা করছে। যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনরায়ের অমর্যাদা করার পরিণতি শুভ হয় না। অনতিবিলম্বে জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে সরকারকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। একই সাথে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দুঃখজনক হলেও বিএনপির চরিত্র হচ্ছে জনগণের সাথে প্রতারণা করা। ঐতিহাসিকভাবে তারা জনগণের রায়কে ভয় পায়। যাদের জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, তারাই এখন গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

মোহাম্মদ শিশির মনির তার বক্তব্যে আইনি ও সাংবিধানিক দিক তুলে ধরে বলেন, ৭২-এর সংবিধান তৈরি হওয়ার পর প্রতিটি ক্ষমতাসীন দল সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা ও পরিবর্তন করে একটি স্থায়ী সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা যেন চোর-পুলিশ খেলার মতো একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এমনভাবে এককেন্দ্রিক করা হয়েছে যে, যদি তা বিকেন্দ্রীকরণ করা না যায়, তবে যেই-ই ক্ষমতায় আসুক, সে বাধ্য হবে গণতান্ত্রিকভাবে নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে। এই কারণেই ‘জুলাই সনদ’-এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।