ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজের ৫টির চালান বাতিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিলেও, এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজের চালান ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করেছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে পাঠানো তালিকাটি পুরোনো পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে কাতারএনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা বিবেচনা করা হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পরপরই এই দুই প্রতিষ্ঠান সব সরবরাহ স্থগিত করে।

জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো তালিকায় এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য পাঁচটি এলএনজি কার্গোর উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে চারটি কাতারএনার্জির এবং একটি এক্সিলারেট এনার্জির। তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্থগিতাদেশ অন্তত ৮ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে, ফলে এই চালানগুলো আর কার্যকর নয়।

আরফানুল হক বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই যেসব চালানের সরবরাহ বাতিল হয়ে গেছে, সেগুলোর জাহাজের তালিকা কেন ইরানে পাঠানো হলো, তা আমাদের জানা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফোর্স মেজরের কারণে এপ্রিল মাসে কাতারএনার্জির কোনো এলএনজি কার্গো নেই। তালিকাভুক্ত জাহাজগুলো কার্যত অস্তিত্বহীন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, ফোর্স মেজরের সময়কাল জানা না থাকায় তারা ভুল করে যুদ্ধ-পূর্ব আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী তথ্য পাঠিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু জাহাজ ফোর্স মেজরের আওতায় থাকলেও অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি এর আওতার বাইরে। এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজগুলো আনা সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া ৬ বাংলাদেশি জাহাজের ৫টির চালান বাতিল

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিলেও, এর মধ্যে পাঁচটি জাহাজের চালান ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করেছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে পাঠানো তালিকাটি পুরোনো পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে কাতারএনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা বিবেচনা করা হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পরপরই এই দুই প্রতিষ্ঠান সব সরবরাহ স্থগিত করে।

জ্বালানি বিভাগ থেকে পাঠানো তালিকায় এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য পাঁচটি এলএনজি কার্গোর উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে চারটি কাতারএনার্জির এবং একটি এক্সিলারেট এনার্জির। তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক নিশ্চিত করেছেন যে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্থগিতাদেশ অন্তত ৮ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে, ফলে এই চালানগুলো আর কার্যকর নয়।

আরফানুল হক বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই যেসব চালানের সরবরাহ বাতিল হয়ে গেছে, সেগুলোর জাহাজের তালিকা কেন ইরানে পাঠানো হলো, তা আমাদের জানা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফোর্স মেজরের কারণে এপ্রিল মাসে কাতারএনার্জির কোনো এলএনজি কার্গো নেই। তালিকাভুক্ত জাহাজগুলো কার্যত অস্তিত্বহীন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে, ফোর্স মেজরের সময়কাল জানা না থাকায় তারা ভুল করে যুদ্ধ-পূর্ব আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী তথ্য পাঠিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছু জাহাজ ফোর্স মেজরের আওতায় থাকলেও অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি এর আওতার বাইরে। এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাহাজগুলো আনা সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।