বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য নিরপেক্ষ প্রশাসন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার অভাব থাকলে দেশে বিশৃঙ্খলা, লুটপাট এবং অস্থিরতা দেখা দেয়, যা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারবে না।
রিজভী বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। তিনি ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে বারবার দমন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘ বঞ্চনা, প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার প্রবণতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটিকে কখনো কেবল ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়, যা সত্য নয়। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ ছিল বাংলাদেশের মানুষের যুদ্ধ, যেখানে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইপিআরসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সকল অবদান একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে উপস্থাপন করার প্রবণতা জাতির আত্মাকে কলুষিত করছে।
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আলোকপাত করে রিজভী বলেন, তাদের সামনে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণরা এখন সত্য বুঝতে পারছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে, কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা তারুণ্যের ধর্ম।
রিপোর্টারের নাম 
























