দেশের সরকারি চাকরিতে জনবল সংকটের এক বিশাল চিত্র উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিস্টিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্ট’ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও সেখানে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ এখনো খালি রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জনের বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, যা বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বিশাল শূন্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মরত থাকলেও শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে বর্তমানে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত আছেন এবং এই শ্রেণিতে খালি পদের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য বিশেষ ক্যাটাগরিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত থাকলেও সেখানে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই পরিসংখ্যানের বাইরেও অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত থাকলেও তারা মূল সরকারি বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত নন। বিপুল সংখ্যক এই শূন্য পদ পূরণের সময়সীমা সম্পর্কে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি পদ পূরণ একটি নিরবচ্ছিন্ন ও চলমান প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো এবং বিধিমালা অনুসরণ করেই এই পদগুলো পূরণের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























