সুষম খাদ্য হলো সেই খাদ্য যেখানে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান—শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি—একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ও সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকে। এই ধরনের খাদ্য গ্রহণ শরীরের সার্বিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সুষম খাদ্য রাখা অপরিহার্য, যা শরীরের পুষ্টিহীনতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণের জন্য কার্যকর বিনিয়োগ সবচেয়ে ফলপ্রসূ। জাতীয় আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে অপুষ্টির হার কমে যায় এবং এর একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুষ্টির উন্নতি ঘটায়, আবার ভালো পুষ্টি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। পুষ্টিতে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগে গড়ে ২৩ ডলারের অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায় এবং স্কুল মিল কর্মসূচিতে প্রতি ১ ডলারের বিনিময়ে ৪-৯ ডলার পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন আহরণ সম্ভব।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও ক্রনিক শ্বাসকষ্টজনিত রোগের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগের কারণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশ ঘটে এবং এর ৮৬ শতাংশ প্রিম্যাচিউর মৃত্যু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ঘটে, যা পরিবার, সমাজ এবং জাতির ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও উন্নয়নগত চাপ সৃষ্টি করে।
প্যান-আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (PAHO/WHO) এবং ম্যাককিনসি হেলথ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু অসংক্রামক রোগের কারণে ২০১১-২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। এর প্রধান কারণ হলো হারানো কর্মঘণ্টা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতার হ্রাস।
রিপোর্টারের নাম 

























