ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সাত দেশের সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাচারের অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)।

অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে তিনটি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (MLAT) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে কাজ চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

সাত দেশের সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাচারের অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)।

অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে তিনটি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (MLAT) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে কাজ চলছে।