বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা মাঠে তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে। বুধবার বাদ জোহর উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাই পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, এই মাহফিল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পথভোলা মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, কোনো দুনিয়াবি স্বার্থে নয়।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা জাগতিক উদ্দেশ্যে মাহফিলে এসেছেন, তাদের উচিত নিয়তের পরিবর্তন করে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া। দুনিয়ার চিন্তা পরিহার করে আখেরাতের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি অহংকার ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে অন্তরকে পবিত্র রেখে এখান থেকে একজন আল্লাহর ওলী হিসেবে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
মাহফিল উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি চরমোনাই মাদরাসা মাঠে সমবেত হয়েছেন। এখানে আগত মুসল্লিদের নামাজসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আগত অসুস্থ মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবার জন্য একটি ১০০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ১৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আরও ৪০ জন চিকিৎসক নিরলসভাবে সেবা দিচ্ছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স ও ২টি নৌ-অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা রক্ষায় চারটি মাঠজুড়ে বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা টিম। হারানো ব্যক্তি বা জিনিসপত্র খুঁজে পেতে প্রতিটি মাঠে ‘হারানো ক্যাম্প’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, আগত মুসল্লিদের জন্য সুপেয় পানি, পর্যাপ্ত টয়লেট, ওজু ও গোসলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই মাহফিলে মোট সাতটি মূল বয়ান অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পীর সাহেব চরমোনাই পাঁচটি এবং নায়েবে আমির মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম দুটি বয়ান প্রদান করবেন। এছাড়াও দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এতে অংশ নেবেন। আগামী ৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে।
রিপোর্টারের নাম 

























