ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের জ্বালানি তেলের মজুত: সংকট এড়াতে সাশ্রয়ী ব্যবহারের পথে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত এবং তা দিয়ে কতদিন চাহিদা মেটানো সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট নেই বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তবুও দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং গ্রাহক-বিক্রেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাগুলো এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযানও চলছে নিয়মিত।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ডিজেল এবং অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই সর্বাধিক। অল্প পরিমাণে অকটেন আমদানি হলেও, চাহিদার বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে, জ্বালানি তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকেও ডিজেল আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশের রিজার্ভ সক্ষমতা অনুযায়ী, বার্ষিক চাহিদার পুরোটা একবারে মজুত করা সম্ভব নয়। সাধারণত, চাহিদার নিরিখে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের চালান আসে এবং তা ব্যবহার করা হয়, এভাবে একটি চক্রাকার পদ্ধতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট শুরুর আশঙ্কায়, বাংলাদেশ মার্চ মাস থেকেই জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি (রেশনিং) গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ববর্তী বছরের মাসভিত্তিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নীতি অনুসরণ করলে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৩১শে মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক। এই মুহূর্তে দেশে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল, সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। এই মজুত দেশীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেতুর অভাবে রংপুরের তারাগঞ্জে ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

দেশের জ্বালানি তেলের মজুত: সংকট এড়াতে সাশ্রয়ী ব্যবহারের পথে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত এবং তা দিয়ে কতদিন চাহিদা মেটানো সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট নেই বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, তবুও দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং গ্রাহক-বিক্রেতাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাগুলো এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযানও চলছে নিয়মিত।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ডিজেল এবং অপরিশোধিত তেলের পরিমাণই সর্বাধিক। অল্প পরিমাণে অকটেন আমদানি হলেও, চাহিদার বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে, জ্বালানি তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর থেকেও ডিজেল আমদানি করা হয়।

বাংলাদেশের রিজার্ভ সক্ষমতা অনুযায়ী, বার্ষিক চাহিদার পুরোটা একবারে মজুত করা সম্ভব নয়। সাধারণত, চাহিদার নিরিখে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের চালান আসে এবং তা ব্যবহার করা হয়, এভাবে একটি চক্রাকার পদ্ধতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট শুরুর আশঙ্কায়, বাংলাদেশ মার্চ মাস থেকেই জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি (রেশনিং) গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ববর্তী বছরের মাসভিত্তিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নীতি অনুসরণ করলে এপ্রিল মাসেও জ্বালানি তেলের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

৩১শে মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক। এই মুহূর্তে দেশে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন ডিজেল, সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন অকটেন, ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। এই মজুত দেশীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।