ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সহায়তার আশ্বাস আইএলও-র

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো এই আশ্বাস প্রদান করেন।

৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডির অধিবেশনে যোগ দিতে জেনেভা সফররত বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রম সচিব আবদুর রহমান তরফদারও উপস্থিত ছিলেন।

গিলবার্ট হোংবো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সে দেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আইএলও নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বর্তমান সরকারকে অভিনন্দনও জানান।

শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গিলবার্ট হোংবোকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে আইএলও, বিশেষ করে তাদের ঢাকা কার্যালয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানে আইএলও মহাপরিচালকের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, বিভিন্ন সদস্য দেশের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছে। তিনি শ্রমক্ষেত্রে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উপরও সমান গুরুত্ব আরোপ করেন।

আলোচনায় শ্রমমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বিপণন সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বীমা প্রভৃতি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কল্যাণে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সহায়তার আশ্বাস আইএলও-র

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো এই আশ্বাস প্রদান করেন।

৩৫৬তম আইএলও গভর্নিং বডির অধিবেশনে যোগ দিতে জেনেভা সফররত বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রম সচিব আবদুর রহমান তরফদারও উপস্থিত ছিলেন।

গিলবার্ট হোংবো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সে দেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আইএলও নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বর্তমান সরকারকে অভিনন্দনও জানান।

শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গিলবার্ট হোংবোকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে আইএলও, বিশেষ করে তাদের ঢাকা কার্যালয়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান আর্টিকেল ২৬ সংক্রান্ত বিষয়টির সমাধানে আইএলও মহাপরিচালকের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, বিভিন্ন সদস্য দেশের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ ও নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছে। তিনি শ্রমক্ষেত্রে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উপরও সমান গুরুত্ব আরোপ করেন।

আলোচনায় শ্রমমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বিপণন সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বীমা প্রভৃতি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কল্যাণে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।