ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: মজুতবিরোধী অভিযানে জেল-জরিমানা

সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন যানবাহন ও চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, যা মাঝে মাঝে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের জন্ম দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তেল সংগ্রহ করতে এসে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসন সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান জোরদার করেছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর সদর উপজেলার ফুলতলা বাজার এলাকার “মেসার্স শামীম ট্রেডার্স” ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত পেট্রোল মজুদের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

অভিযানে ওই ফিলিং স্টেশনে ১১ হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়, যেখানে অনুমোদিত পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ৫০০ লিটার। এছাড়া ৪ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেলও মজুত ছিল। অতিরিক্ত মজুদ থাকা ৬ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল তাৎক্ষণিকভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। এর আগে ২৮ মার্চ বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও বাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক অভিযানে ৩৫০ লিটার ডিজেল ও ৩০ লিটার অকটেন জব্দ করেন। এই ঘটনায় পরিতোষ রায় নামের এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি মূল্যে বিক্রি করে অর্থ কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২৬ মার্চ কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এনায়েতুল করিম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জেলা শহরের রহমান ফিলিং স্টেশন ও সূচনা ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি স্থানে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চালক ও কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় মোট ৯২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলার ২৪টি ফিলিং স্টেশনে ২৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইসরাইলি আগ্রাসন, দক্ষিণ লেবাননে তীব্র গোলাবর্ষণ

দিনাজপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: মজুতবিরোধী অভিযানে জেল-জরিমানা

আপডেট সময় : ১১:১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন যানবাহন ও চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, যা মাঝে মাঝে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের জন্ম দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তেল সংগ্রহ করতে এসে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসন সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান জোরদার করেছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ দিনাজপুর সদর উপজেলার ফুলতলা বাজার এলাকার “মেসার্স শামীম ট্রেডার্স” ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত পেট্রোল মজুদের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

অভিযানে ওই ফিলিং স্টেশনে ১১ হাজার লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়, যেখানে অনুমোদিত পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ হাজার ৫০০ লিটার। এছাড়া ৪ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেলও মজুত ছিল। অতিরিক্ত মজুদ থাকা ৬ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল তাৎক্ষণিকভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। এর আগে ২৮ মার্চ বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও বাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক অভিযানে ৩৫০ লিটার ডিজেল ও ৩০ লিটার অকটেন জব্দ করেন। এই ঘটনায় পরিতোষ রায় নামের এক ব্যক্তিকে ৭ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত তেল সরকারি মূল্যে বিক্রি করে অর্থ কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২৬ মার্চ কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এনায়েতুল করিম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জেলা শহরের রহমান ফিলিং স্টেশন ও সূচনা ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি স্থানে তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চালক ও কর্মচারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলায় মোট ৯২টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলার ২৪টি ফিলিং স্টেশনে ২৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।