সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংসের মাধ্যমে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি। বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়। এই সময়কালে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়, যার মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪ পিস ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ১ হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬ পিস মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল ১০০ মিলিলিটার ও ৬ বোতল ৫০ মিলিলিটার এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪০০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি মাদককে একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, র্যাব-৬, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















