ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চৌহালীতে হতদরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ঢেউটিনের অর্থের আত্মসাতের অভিযোগ, পিআইও ও সিএ জড়িত

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিনের সঙ্গে প্রদেয় নগদ অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হেকমত আলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের সিএ মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের ২৬টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৪২ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। ওই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোদাদাদ হোসেনের উপস্থিতিতে এসব ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। সুবিধাভোগীরা জানান, প্রতি বান্ডিল ঢেউটিনের সঙ্গে প্রতি পরিবারের জন্য ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ইউএনও বদলির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ২৬টি পরিবারকে ওই টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, টিনের সঙ্গে প্রদেয় টাকা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাসকাউলিয়া মধ্য জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী ছাহেরা খাতুনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু ঢেউটিন পেয়েছি, কোনো টাকা পাইনি।’ খাষকাউলিয়া পশ্চিম জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী আব্দুল ওহাবের স্ত্রী বলেন, ‘ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। সাথে কোনো টাকা বা ব্যাংক চেক পাইনি।’ খাষকাউলিয়া দক্ষিণ জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী মোছা. সুমনা খাতুনের শ্বশুর বলেন, ‘আমি দুই বান্ডিল ঢেউটিন উত্তোলন করেছি, কিন্তু নগদ টাকা বা ব্যাংক চেক দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীর কাছে ঢেউটিনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পিআইও সাহেব জানেন। আমি কিছু জানি না।’ চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হেকমত আলী বলেন, ‘ঢেউটিন বিতরণের সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। তখন শুধু টিনের বরাদ্দ ছিল, অর্থের বরাদ্দ ছিল না। পরে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। যারা টিন পেয়েছেন, তালিকা অনুযায়ী তাদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর বরাদ্দপ্রাপ্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লটকন চাষে স্বপ্নপূরণ: নরসিংদীর আক্তার হোসেনের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

চৌহালীতে হতদরিদ্রদের বরাদ্দকৃত ঢেউটিনের অর্থের আত্মসাতের অভিযোগ, পিআইও ও সিএ জড়িত

আপডেট সময় : ০১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ঢেউটিনের সঙ্গে প্রদেয় নগদ অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হেকমত আলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের সিএ মো. ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের ২৬টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৪২ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। ওই সময়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোদাদাদ হোসেনের উপস্থিতিতে এসব ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। সুবিধাভোগীরা জানান, প্রতি বান্ডিল ঢেউটিনের সঙ্গে প্রতি পরিবারের জন্য ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ইউএনও বদলির পর দীর্ঘ সময় পার হলেও ২৬টি পরিবারকে ওই টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, টিনের সঙ্গে প্রদেয় টাকা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। খাসকাউলিয়া মধ্য জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী ছাহেরা খাতুনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা শুধু ঢেউটিন পেয়েছি, কোনো টাকা পাইনি।’ খাষকাউলিয়া পশ্চিম জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী আব্দুল ওহাবের স্ত্রী বলেন, ‘ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। সাথে কোনো টাকা বা ব্যাংক চেক পাইনি।’ খাষকাউলিয়া দক্ষিণ জোতপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী মোছা. সুমনা খাতুনের শ্বশুর বলেন, ‘আমি দুই বান্ডিল ঢেউটিন উত্তোলন করেছি, কিন্তু নগদ টাকা বা ব্যাংক চেক দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলীর কাছে ঢেউটিনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পিআইও সাহেব জানেন। আমি কিছু জানি না।’ চৌহালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. হেকমত আলী বলেন, ‘ঢেউটিন বিতরণের সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। তখন শুধু টিনের বরাদ্দ ছিল, অর্থের বরাদ্দ ছিল না। পরে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। যারা টিন পেয়েছেন, তালিকা অনুযায়ী তাদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর বরাদ্দপ্রাপ্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’