ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

শোল মাছের গ্রাম: পাইকগাছার বাদুড়িয়ায় স্বাবলম্বীতার নতুন দিগন্ত

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা এখন শোল মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত। উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রামের তিন শতাধিক পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। যুবক থেকে বৃদ্ধ—সবাই ঝুঁকছেন এই লাভজনক পেশায়। ছোট ছোট পুকুর থেকে শুরু করে মাঝারি জলাশয়—সবখানেই চলছে শোল মাছের নিবিড় চাষ। মাছের খাদ্য প্রস্তুত, পুকুর পরিচর্যা ও বিপণনকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য।

প্রতিটি পুকুরের চারপাশ বাঁশের চটা ও বিশেষ নেট দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এতে পুকুরগুলো যেমন পরিপাটি ও দৃষ্টিনন্দন দেখাচ্ছে, তেমনই মাছ চাষের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে সাপ, ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত প্রাণী পুকুরে প্রবেশ করতে পারছে না, যা শোল মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েক বছর আগেও গ্রামের অনেক মানুষ বেকার ছিলেন অথবা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু শোল মাছ চাষে সাফল্য আসার পর তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে অনেক পরিবার এই মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহ নিয়ে এই খাতে যুক্ত হচ্ছেন।

চাষিরা জানান, অধিকাংশ পুকুরের আয়তন ৫ থেকে ৬ শতক। এসব পুকুরে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত শোল মাছের পোনা ছাড়া হয়। খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন সকাল ও বিকালে তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছ কেটে দেওয়া হয়। একটি পুকুরে দৈনিক প্রায় এক মণ পর্যন্ত মাছ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাছের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের পরিমাণও বাড়ানো হয়। শোল মাছ চাষে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন ভোর থেকে গৃহিণীদের মাছের খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছ কেটে খাদ্য তৈরির কাজ এখন বাদুড়িয়া গ্রামের নিত্যদিনের দৃশ্য। স্থানীয় মৎস্যচাষি হাসানুজ্জামান বলেন, মাত্র ৬ শতক আয়তনের একটি পুকুরে দুই হাজার ৬০০ শোল মাছের পোনা ছেড়ে চাষ শুরু করি। সাত-আট মাসের মধ্যে মাছের ওজন ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লটকন চাষে স্বপ্নপূরণ: নরসিংদীর আক্তার হোসেনের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

শোল মাছের গ্রাম: পাইকগাছার বাদুড়িয়ায় স্বাবলম্বীতার নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা এখন শোল মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত। উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের বাদুড়িয়া গ্রামের তিন শতাধিক পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ করে শতাধিক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। যুবক থেকে বৃদ্ধ—সবাই ঝুঁকছেন এই লাভজনক পেশায়। ছোট ছোট পুকুর থেকে শুরু করে মাঝারি জলাশয়—সবখানেই চলছে শোল মাছের নিবিড় চাষ। মাছের খাদ্য প্রস্তুত, পুকুর পরিচর্যা ও বিপণনকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য।

প্রতিটি পুকুরের চারপাশ বাঁশের চটা ও বিশেষ নেট দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এতে পুকুরগুলো যেমন পরিপাটি ও দৃষ্টিনন্দন দেখাচ্ছে, তেমনই মাছ চাষের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে সাপ, ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত প্রাণী পুকুরে প্রবেশ করতে পারছে না, যা শোল মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েক বছর আগেও গ্রামের অনেক মানুষ বেকার ছিলেন অথবা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু শোল মাছ চাষে সাফল্য আসার পর তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে অনেক পরিবার এই মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহ নিয়ে এই খাতে যুক্ত হচ্ছেন।

চাষিরা জানান, অধিকাংশ পুকুরের আয়তন ৫ থেকে ৬ শতক। এসব পুকুরে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত শোল মাছের পোনা ছাড়া হয়। খাদ্য হিসেবে প্রতিদিন সকাল ও বিকালে তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছ কেটে দেওয়া হয়। একটি পুকুরে দৈনিক প্রায় এক মণ পর্যন্ত মাছ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মাছের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের পরিমাণও বাড়ানো হয়। শোল মাছ চাষে নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন ভোর থেকে গৃহিণীদের মাছের খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছ কেটে খাদ্য তৈরির কাজ এখন বাদুড়িয়া গ্রামের নিত্যদিনের দৃশ্য। স্থানীয় মৎস্যচাষি হাসানুজ্জামান বলেন, মাত্র ৬ শতক আয়তনের একটি পুকুরে দুই হাজার ৬০০ শোল মাছের পোনা ছেড়ে চাষ শুরু করি। সাত-আট মাসের মধ্যে মাছের ওজন ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।