ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আইসিইউ না পেয়ে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু: নাটোরে উদ্বেগ

নাটোর সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী শিশু কাশফি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা না পাওয়ায় শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত আইসিইউ না থাকায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি জেলায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া জানিয়েছেন, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে আইসিইউ না থাকার কারণেই শিশুটিকে রেফার্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত কাশফি বড় হরিশপুরের সাইফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান ছিল।

নাটোর সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এদের মধ্যে আটজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হামের প্রাদুর্ভাব ও প্রতিরোধ বিষয়ক একটি জনসচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে জেলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও, তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে এই বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হামে আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো হাসপাতালে আনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর ২০ বছরের প্রস্তাব ইরানের: দাবি ট্রাম্পের

আইসিইউ না পেয়ে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু: নাটোরে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নাটোর সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন মাস বয়সী শিশু কাশফি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা না পাওয়ায় শিশুটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও পর্যাপ্ত আইসিইউ না থাকায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি জেলায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া জানিয়েছেন, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে আইসিইউ না থাকার কারণেই শিশুটিকে রেফার্ড করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত কাশফি বড় হরিশপুরের সাইফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান ছিল।

নাটোর সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এদের মধ্যে আটজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হামের প্রাদুর্ভাব ও প্রতিরোধ বিষয়ক একটি জনসচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে জেলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও, তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে এই বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হামে আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো হাসপাতালে আনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়।