ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ওসমানীনগরে সামাদ হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সম্প্রতি সংঘটিত সামাদ আহমদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আদালত ও থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সংঘটিত সামাদ আহমদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ডলি বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, প্রধান আসামি সাকিল মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া জানিয়েছেন, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, গত ১৬ মার্চ একই গ্রামের আব্দুল কাছির মিয়ার স্ত্রী সাজনা বেগম বাদী হয়ে সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, গত ২৮ মার্চ আব্দুল মোক্তারের স্ত্রী লায়লা বেগম ওসমানীনগর থানায় পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগগুলোতেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিবরণ রয়েছে।

অভিযোগকারী সাজনা বেগম জানান, রাস্তা সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের বাড়ির পুরুষদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। ৯ মার্চ সকালে তারা সাজনা বেগমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা ও কাচের জানালা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা, পাওয়ার টিলারের যন্ত্রাংশ, মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। একইভাবে, ২৬ মার্চ দুপুর ২টার দিকে অজ্ঞাতনামা একদল ব্যক্তি লায়লা বেগমের বাড়ির পাশ থেকে ৪টি ছাগল, ৫টি মুরগি, বাঁশ এবং পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি রাতে পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে লায়লা বেগম দেখতে পান তার বাড়ির পানির মোটরটিও চুরি হয়ে গেছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন। লায়লা বেগমও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষ সাজ্জাদ গং তাদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের প্রাণহানি

ওসমানীনগরে সামাদ হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সম্প্রতি সংঘটিত সামাদ আহমদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় আদালত ও থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সংঘটিত সামাদ আহমদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ডলি বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, প্রধান আসামি সাকিল মিয়া এখনও পলাতক রয়েছে। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরশেদুল আলম ভূইয়া জানিয়েছেন, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, গত ১৬ মার্চ একই গ্রামের আব্দুল কাছির মিয়ার স্ত্রী সাজনা বেগম বাদী হয়ে সিলেট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, গত ২৮ মার্চ আব্দুল মোক্তারের স্ত্রী লায়লা বেগম ওসমানীনগর থানায় পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগগুলোতেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিবরণ রয়েছে।

অভিযোগকারী সাজনা বেগম জানান, রাস্তা সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের বাড়ির পুরুষদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে। ৯ মার্চ সকালে তারা সাজনা বেগমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দরজা ও কাচের জানালা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা, পাওয়ার টিলারের যন্ত্রাংশ, মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। একইভাবে, ২৬ মার্চ দুপুর ২টার দিকে অজ্ঞাতনামা একদল ব্যক্তি লায়লা বেগমের বাড়ির পাশ থেকে ৪টি ছাগল, ৫টি মুরগি, বাঁশ এবং পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এমনকি রাতে পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে লায়লা বেগম দেখতে পান তার বাড়ির পানির মোটরটিও চুরি হয়ে গেছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন। লায়লা বেগমও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতিপক্ষ সাজ্জাদ গং তাদের নিয়মিত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।