নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় অবস্থিত “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির অপারেশনের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ডোমার উপজেলা প্রশাসন ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করে।
ভুক্তভোগী প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী। তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশন শেষে রোববার রিলিজ নেওয়ার সময় ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় চিকিৎসক ফারজানা আফরিন সুমী নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেন।
রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির দাবি, ভর্তির সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু অপারেশনের পর অনেক চেষ্টা করেও তারা পুরো টাকা জোগাড় করতে পারেননি। এরপরই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, ক্লিনিকের চিকিৎসক ফারজানা প্রসূতি রোগী ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখেন এবং রোগীর ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য বাচ্চা বিক্রি করতে চাপ দেওয়া হয়।
দম্পতি আরও জানান, ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে ৩ থেকে ৪ জন লোক এসেছিল বাচ্চা কেনার জন্য। তাদের মধ্যে একজন ৩০ হাজার এবং অন্যজন ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সেখান থেকে হাসপাতালের বিল বাবদ ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি ১০ হাজার টাকা রোগীর পরিবারকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিকের ডা. ফারজানা আফরিন সুমী নবজাতক বিক্রির জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি পরিদর্শন শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত তদন্তে নামেন। তদন্তকালে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগসহ আরও কিছু অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























