ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে এস আলমের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু: বিটিআরসির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিতর্কিত টেলিকম প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্ট কমিউনিকেশন’ (ফাস্ট কম) বিপুল পরিমাণ বকেয়া এবং গুরুতর আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি পেয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আদালতের স্থিতিাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে এই সুযোগ করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও সম্প্রতি বিটিআরসির একটি বিশেষ মহলের হস্তক্ষেপে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিটিআরসি তার নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং ‘মিটিং মিনিটস’ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে এই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেছে, যা টেলিকম খাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর বকেয়া রাজস্ব এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে ফাস্ট কমের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিটিআরসির পাওনা ছিল ৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আইজিডব্লিউ (IGW) অপারেটরদের পাওনা প্রায় ৩ কোটি টাকা। অথচ বিটিআরসি নিজেদের পাওনার মাত্র অর্ধেক (২ কোটি টাকা) আদায় করেই গত ১৬ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয়। বিটিআরসির নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কল লেনদেনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ফাস্ট কমের ক্ষেত্রে কমিশন নিজেই নিজের নিয়ম ভঙ্গ করেছে। এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ হলো, গত ১৫ মার্চের মিটিং মিনিটসে বিটিআরসি উল্লেখ করেছে যে সব পক্ষ কিস্তিতে টাকা পরিশোধের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট অপারেটররা দাবি করেছেন তারা এমন কোনো সম্মতি দেননি এবং এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

ফাস্ট কমের মালিকানা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ বেনামে এর ৭৭ শতাংশেরও বেশি শেয়ারের মালিক। বাকি শেয়ারের মালিক সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তার পরিবার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত এস আলম সংশ্লিষ্ট ৪২টি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন, যার মধ্যে ফাস্ট কমের প্রধান দুই শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি ‘জেনেসিস টেক্সটাইল’ ও ‘লায়ন সিকিউরিটিজ’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায়, তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আইওএফ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার মুশফিক মঞ্জুর জানিয়েছেন, অভিভাবক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসির এমন একপাক্ষিক আচরণ এবং জালিয়াতি টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে এস আলমের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু: বিটিআরসির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বিতর্কিত টেলিকম প্রতিষ্ঠান ‘ফার্স্ট কমিউনিকেশন’ (ফাস্ট কম) বিপুল পরিমাণ বকেয়া এবং গুরুতর আইনি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি পেয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আদালতের স্থিতিাবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে এই সুযোগ করে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও সম্প্রতি বিটিআরসির একটি বিশেষ মহলের হস্তক্ষেপে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিটিআরসি তার নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং ‘মিটিং মিনিটস’ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে এই অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেছে, যা টেলিকম খাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর বকেয়া রাজস্ব এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে ফাস্ট কমের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিটিআরসির পাওনা ছিল ৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আইজিডব্লিউ (IGW) অপারেটরদের পাওনা প্রায় ৩ কোটি টাকা। অথচ বিটিআরসি নিজেদের পাওনার মাত্র অর্ধেক (২ কোটি টাকা) আদায় করেই গত ১৬ মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসা করার অনুমতি দেয়। বিটিআরসির নিজস্ব নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বকেয়া পরিশোধ না করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কল লেনদেনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু ফাস্ট কমের ক্ষেত্রে কমিশন নিজেই নিজের নিয়ম ভঙ্গ করেছে। এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ হলো, গত ১৫ মার্চের মিটিং মিনিটসে বিটিআরসি উল্লেখ করেছে যে সব পক্ষ কিস্তিতে টাকা পরিশোধের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট অপারেটররা দাবি করেছেন তারা এমন কোনো সম্মতি দেননি এবং এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

ফাস্ট কমের মালিকানা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ বেনামে এর ৭৭ শতাংশেরও বেশি শেয়ারের মালিক। বাকি শেয়ারের মালিক সাবেক মন্ত্রী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তার পরিবার। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত এস আলম সংশ্লিষ্ট ৪২টি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন, যার মধ্যে ফাস্ট কমের প্রধান দুই শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি ‘জেনেসিস টেক্সটাইল’ ও ‘লায়ন সিকিউরিটিজ’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পায়, তা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আইওএফ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার মুশফিক মঞ্জুর জানিয়েছেন, অভিভাবক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসির এমন একপাক্ষিক আচরণ এবং জালিয়াতি টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।