ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বেবিচকে বছরের পর বছর একই পদ দখল: শিকড় গেড়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ভয়াবহ স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে সংস্থাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ ১০ বছর, কেউ ১৬ বছর, এমনকি কেউ টানা ২৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে জেঁকে বসে আছেন। বারবার বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনক কারণে তা স্থগিত হয়ে যায় অথবা সংশ্লিষ্টরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন না। দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থানের ফলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা বেবিচকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহ আমানত বিমানবন্দরের এরোড্রাম অফিসার আবু মো. ওমর শরীফ ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাফরুল হাসান ২২ বছর এবং পার্সোনেল অফিসার কাজী ফৌজিয়া নাহার ২৬ বছর ধরে একই দফতরে কর্মরত। এছাড়া হাবিবা আফরোজ, সামসুন্নাহার লিজা এবং হিসাবরক্ষক সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের মতো অনেকেই ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে একই চেয়ার দখল করে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে। যখনই তাদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং বদলির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের ‘ঘুষ’ না দিলে কোনো ফাইল নড়ে না। প্রশাসন বিভাগের এই অঘোষিত আধিপত্যের কারণে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মুখ খুলতে সাহস পান না। অতি সম্প্রতি ভুক্তভোগী কর্মচারীরা এসব দীর্ঘমেয়াদী দখলদারদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। যারা বছরের পর বছর একই পদে আছেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একই পদে এত বছর থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি দ্রুত তালিকা প্রণয়ন করে চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেছেন যে তারা নির্দিষ্ট সময় ধরেই ওই পদে আছেন এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে তারা চলে যাবেন। তবে বিমান চলাচল খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ‘স্থায়ী’ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে মার্কিনদের সমর্থন হ্রাস: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও তলানিতে

বেবিচকে বছরের পর বছর একই পদ দখল: শিকড় গেড়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ১২:৪১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ভয়াবহ স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে সংস্থাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কেউ ১০ বছর, কেউ ১৬ বছর, এমনকি কেউ টানা ২৬ বছর ধরে একই কর্মস্থলে জেঁকে বসে আছেন। বারবার বদলির আদেশ হলেও রহস্যজনক কারণে তা স্থগিত হয়ে যায় অথবা সংশ্লিষ্টরা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন না। দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থানের ফলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা বেবিচকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহ আমানত বিমানবন্দরের এরোড্রাম অফিসার আবু মো. ওমর শরীফ ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাফরুল হাসান ২২ বছর এবং পার্সোনেল অফিসার কাজী ফৌজিয়া নাহার ২৬ বছর ধরে একই দফতরে কর্মরত। এছাড়া হাবিবা আফরোজ, সামসুন্নাহার লিজা এবং হিসাবরক্ষক সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের মতো অনেকেই ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে একই চেয়ার দখল করে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে। যখনই তাদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকে বেনামি চিঠি পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং বদলির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।

ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের ‘ঘুষ’ না দিলে কোনো ফাইল নড়ে না। প্রশাসন বিভাগের এই অঘোষিত আধিপত্যের কারণে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মুখ খুলতে সাহস পান না। অতি সম্প্রতি ভুক্তভোগী কর্মচারীরা এসব দীর্ঘমেয়াদী দখলদারদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বেবিচক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। যারা বছরের পর বছর একই পদে আছেন, তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একই পদে এত বছর থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি দ্রুত তালিকা প্রণয়ন করে চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের কেউ কেউ অবশ্য দাবি করেছেন যে তারা নির্দিষ্ট সময় ধরেই ওই পদে আছেন এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে তারা চলে যাবেন। তবে বিমান চলাচল খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ‘স্থায়ী’ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।