ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে তাইম হত্যা: লাশের বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে সংঘটিত পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও দেলোয়ার হোসেন। তাদের জবানবন্দিতে তাইমের লাশের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা উঠে এসেছে, যেখানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম তার জবানবন্দিতে জানান, ২১ জুলাই যোহরের নামাজের পর শহীদ তাইমের মরদেহ রাজারবাগ জামে মসজিদে আনা হয়। গোসলের জন্য জামা-কাপড় খোলার পর তার শরীরে অসংখ্য গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। উপস্থিত সকলেই অনুমান করেন, এসব গুলি শর্টগান থেকে করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাইমের মরদেহ তার বাবা ময়নাল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে, তৃতীয় সাক্ষী এসআই দেলোয়ার হোসেন আদালতকে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেলে আহত বা নিহত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর ছিল। ২০ জুলাই ডিএমপির এডিসি (ওয়েলফেয়ার) তাকে ফোন করে জানান যে, এসআই ময়নাল হোসেনের ছেলে ইমাম হাসান তাইম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

দেলোয়ার হোসেন ময়নাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পান। সেখানেই তাইমের খালা তাকে জানান যে, সাংবাদিকের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন তাইম সম্ভবত মারা গেছেন এবং তার লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেলোয়ার তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল মর্গ ও জরুরি বিভাগের পাশের মর্গে লাশ না পেয়ে নতুন ভবনের পাশে অবস্থিত আরেকটি মর্গের মেঝেতে তাইমের মরদেহ খুঁজে পান। সেখানে আরও ৬-৭টি লাশ ছিল।

ময়নাল হোসেন তার ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। দেলোয়ার তাইমের লাশের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তার সাদা-কালো চেক শার্টের সবগুলো বোতাম খোলা ছিল এবং প্যান্টের বাম পায়ের ওপর থেকে হাঁটুর ওপরের অংশ কাটা ছিল। তলপেটে, বুকে এবং দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ও উপরে রক্তাক্ত জখম দেখা যায়, যা তার মতে শর্টগানের ছররা গুলির আঘাত। পরদিন ২১ জুলাই লাশের সুরতহাল করা হয়, যেখানে তিনি দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লাশের গোসলের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতকে জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান: এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

জুলাই বিপ্লবে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে তাইম হত্যা: লাশের বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে সংঘটিত পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও দেলোয়ার হোসেন। তাদের জবানবন্দিতে তাইমের লাশের ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা উঠে এসেছে, যেখানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম তার জবানবন্দিতে জানান, ২১ জুলাই যোহরের নামাজের পর শহীদ তাইমের মরদেহ রাজারবাগ জামে মসজিদে আনা হয়। গোসলের জন্য জামা-কাপড় খোলার পর তার শরীরে অসংখ্য গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। উপস্থিত সকলেই অনুমান করেন, এসব গুলি শর্টগান থেকে করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাইমের মরদেহ তার বাবা ময়নাল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে, তৃতীয় সাক্ষী এসআই দেলোয়ার হোসেন আদালতকে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা মেডিকেলে আহত বা নিহত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর ছিল। ২০ জুলাই ডিএমপির এডিসি (ওয়েলফেয়ার) তাকে ফোন করে জানান যে, এসআই ময়নাল হোসেনের ছেলে ইমাম হাসান তাইম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

দেলোয়ার হোসেন ময়নাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পান। সেখানেই তাইমের খালা তাকে জানান যে, সাংবাদিকের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন তাইম সম্ভবত মারা গেছেন এবং তার লাশ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেলোয়ার তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল মর্গ ও জরুরি বিভাগের পাশের মর্গে লাশ না পেয়ে নতুন ভবনের পাশে অবস্থিত আরেকটি মর্গের মেঝেতে তাইমের মরদেহ খুঁজে পান। সেখানে আরও ৬-৭টি লাশ ছিল।

ময়নাল হোসেন তার ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। দেলোয়ার তাইমের লাশের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তার সাদা-কালো চেক শার্টের সবগুলো বোতাম খোলা ছিল এবং প্যান্টের বাম পায়ের ওপর থেকে হাঁটুর ওপরের অংশ কাটা ছিল। তলপেটে, বুকে এবং দুই পায়ের হাঁটুর নিচে ও উপরে রক্তাক্ত জখম দেখা যায়, যা তার মতে শর্টগানের ছররা গুলির আঘাত। পরদিন ২১ জুলাই লাশের সুরতহাল করা হয়, যেখানে তিনি দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। লাশের গোসলের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলে আদালতকে জানান।