ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে হত্যা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার তদন্তের প্রয়োজনে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই হত্যা মামলাটি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানThe July uprising-এর ঘটনা সম্পর্কিত।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতে বলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আফজাল নাছের হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তখন দায়িত্ব পালন করায় খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আফজাল নাছের তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে তাঁর মক্কেলের জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনThe July movement-এর ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এসময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় পাঁচশত থেকে সাতশত জন সন্ত্রাসীর গুলিতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করে।

রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি আফজাল নাছেরের জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি বলে আদালতকে জানানো হয়।

এর আগে সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

গণঅভ্যুত্থানে হত্যা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৬:২৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার তদন্তের প্রয়োজনে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই হত্যা মামলাটি জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানThe July uprising-এর ঘটনা সম্পর্কিত।

সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতে বলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আফজাল নাছের হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তখন দায়িত্ব পালন করায় খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আফজাল নাছের তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে তাঁর মক্কেলের জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনThe July movement-এর ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এসময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় পাঁচশত থেকে সাতশত জন সন্ত্রাসীর গুলিতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করে।

রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি আফজাল নাছেরের জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি বলে আদালতকে জানানো হয়।

এর আগে সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।