অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩১০ কোটি ৯৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ইভ্যালিডটকম লিমিটেডের মালিক মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিন এবং তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে ঢাকার পূর্ব কাজীপাড়ায় অবস্থিত ইভ্যালি.কম লিমিটেড নামক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অসংখ্য গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ না করে তারা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বড় অঙ্কের পণ্য কিনেও সেগুলোর মূল্য পরিশোধ করেনি এবং সেই অর্থও আত্মসাৎ করেছে। এই আত্মসাৎকৃত অর্থ তারা বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, সম্পদ অর্জন এবং স্বামী-স্ত্রী মিলে বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন ভোগ-বিলাসে ব্যয় করেছেন। গ্রাহকদের বারবার নতুন ডেলিভারির তারিখ দিয়ে আশ্বস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়নি, যা স্পষ্টতই একটি প্রতারণামূলক কার্যক্রম।
সিআইডির অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৮ মার্চ ডিএমপির কাফরুল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন— মো. রাসেল (৪৩), শামীমা নাসরিন (৪০), ইভ্যালি.কম লিমিটেড এবং তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীরা। সিআইডি আত্মসাৎকৃত অর্থের হদিস এবং জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























