আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় গত বছরের তুলনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদে মোট ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত, অর্থাৎ বিগত ১৫ দিনে মোট ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত এবং ৮২৬ জন আহত হয়েছিলেন। এই হিসাবে, এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং আহতদের সংখ্যা ২১.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদন আরও বলছে, একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত এবং ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সব মিলিয়ে, সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে এই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বরাবরের মতোই মোটরসাইকেলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, বাস, ব্যাটারীচালিত রিক্সা, কার-মাইক্রো, নছিমন-করিমন এবং সিএনজিচালিত অটোরিক্সাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চালক, শিশু, পথচারী, নারী, শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চিকিৎসকও রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মুখোমুখি সংঘর্ষ (৩৫.৮৩%), পথচারীকে চাপা দেওয়া (৩২.৩৬%), নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া (২২.২৫%) এবং অন্যান্য অজ্ঞাত কারণগুলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























