মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে মাফিয়া সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানব পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরthreadীর আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জur করেছেন আদালত। রোববার ৩০ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিparamsণ্ড শেষে এদিন তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
শুনানির সময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন যে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর সিন্ডikeটের অন্যতম মূল হোতা হলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই বিশাল সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম উঠে এসেছে। তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী একে ফালতু কথা বলে উড়িয়ে দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান আদালতকে জানান যে জিজ্ঞাসাবাদে সময়স্বল্পতার কারণে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী পাঠানো হয়েছে ও কতজন প্রতারিত হয়ে ফেরত এসেছেন সেই তথ্য যাচাইসহ আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারের জন্য তাকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে এই মামলার আরেক আসামি এসএম রফিক গত ১ ডিসেম্বর আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন যেখানে তিনি সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল এবং নিজাম হাজারীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনার আড়ালে একটি নির্দিষ্ট চক্র তৈরি করে জনপ্রতি অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব দাবি করেন যে মাসুদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই এবং তার ৭২ বছর বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিল করা উচিত তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় আফিয়া ওভারসিজের প্রোপ্রাইটর আলতাব খান এই মামলাটি দায়ের করেন যেখানে সাবেক মন্ত্রী ও সচিবসহ মোট ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে যে জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিরা মাফিয়া সিন্ডিকেট তৈরি করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিলেন এবং পরস্পর যোগসাজশে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে এই মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বিশাল চক্রের আরও গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিপোর্টারের নাম 

























