চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দেলোয়ার হোসাইনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন তার কাছ থেকে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ একজন হত্যা মামলার আসামির কাছ থেকে অপহরণের মতো একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে র্যাব কর্মকর্তা হত্যায় জড়িত সন্দেহে আলীনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সহযোগী দেলোয়ার হোসাইন ও মো. সোহেলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওমর ফারুকসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগের এজাহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অপহরণ মামলার বাদী গ্রেপ্তার হওয়া দেলোয়ার হোসাইন নিজেকে আলীনগরের মো. মোখলেছুর রহমানের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত শুক্রবার দুপুরে তিনি ও তার বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় ছিন্নমূল বাজারে পৌঁছালে তাদের অপহরণ করা হয়। আসামিরা তাদের মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। পরে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। মামলার এজাহারে দেলোয়ার নিজেকে পোশাক শ্রমিক এবং মো. সোহেল নিজেকে বিকাশ ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রেপ্তার থাকা অবস্থায় দেলোয়ার হোসাইনের কাছ থেকে এই অপহরণ মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুজনকে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আরেকজনকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার করি। গ্রেপ্তারের পর আসামি কীভাবে মামলা করেছেন, তা আমার জানা নেই।’
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আসামি হলেও তার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার আছে। আমরা তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলা গ্রহণ করিনি। মামলা গ্রহণের পর জানতে পেরেছি তিনি ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি র্যাব কর্মকর্তা হত্যার সন্দেহভাজন আসামি। তখন আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি।’
রিপোর্টারের নাম 

























