ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

জামিনে মুক্তি পেয়েই স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারলেন আওয়ামী লীগ নেতা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই এক আওয়ামী লীগ নেতা পুরোনো কর্মস্থলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। এই ঘটনার সূত্রপাত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, আমিনুলের চাচাতো ভাই সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্কুলে ঢুকে এই তাণ্ডব চালান।

জানা যায়, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে চাকরি করে আসছিলেন। জাল সনদ ধরা পড়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এই যুক্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি আবারও কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেন তিনি। অবশেষে রোববার সকালে তিনি ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা চালান।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম জানিয়েছেন, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, ‘আমি সবার চেহারা দেখিনি, তবে কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পারছি। আমার ওপর হামলার জন্য প্রথমে হুকুম দেয় চৌধুরী বাড়ির মাহবুব চৌধুরী, যাকে সবাই মাসুম নামে চেনে। এছাড়া বেড়াখলা পশ্চিমপাড়ার ফজলুল হকের ছেলে লুৎফুর রহমান, বিএনপির কর্মী হাজী বাড়ির সোহেল এবং সুরুজ মিয়ার ছেলে সবুজ সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেয়। এতে তিনি কোমর ব্যথায় দাঁড়াতে পারছেন না। তাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও কিছু টাকাও তারা নিয়ে যায় এবং মোবাইলটি নষ্ট করে ফেলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

জামিনে মুক্তি পেয়েই স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারলেন আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট সময় : ১০:০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েই এক আওয়ামী লীগ নেতা পুরোনো কর্মস্থলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষিকাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। এই ঘটনার সূত্রপাত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, আমিনুলের চাচাতো ভাই সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্কুলে ঢুকে এই তাণ্ডব চালান।

জানা যায়, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে চাকরি করে আসছিলেন। জাল সনদ ধরা পড়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে এবং এই যুক্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি আবারও কর্মস্থলে যোগ দেন। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেন তিনি। অবশেষে রোববার সকালে তিনি ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা চালান।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম জানিয়েছেন, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন মানুষ তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, ‘আমি সবার চেহারা দেখিনি, তবে কয়েকজনকে চিহ্নিত করতে পারছি। আমার ওপর হামলার জন্য প্রথমে হুকুম দেয় চৌধুরী বাড়ির মাহবুব চৌধুরী, যাকে সবাই মাসুম নামে চেনে। এছাড়া বেড়াখলা পশ্চিমপাড়ার ফজলুল হকের ছেলে লুৎফুর রহমান, বিএনপির কর্মী হাজী বাড়ির সোহেল এবং সুরুজ মিয়ার ছেলে সবুজ সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে চেয়ার থেকে লাথি মেরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেয়। এতে তিনি কোমর ব্যথায় দাঁড়াতে পারছেন না। তাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও কিছু টাকাও তারা নিয়ে যায় এবং মোবাইলটি নষ্ট করে ফেলে।