ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

নবীন ফ্যাশনের বিশৃঙ্খলা: আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন ওসি মর্তুজা

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে ‘নবীন ফ্যাশন’ নামক দোকানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আদালতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা। তিনি লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন যে, আকর্ষণীয় অফারকে কেন্দ্র করে হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড় এবং বাইকারদের চাপের ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে ওসি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, যদি আদালত পুলিশের কোনো ভুল খুঁজে পায়, তবে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন।

ওসি আদালতকে জানান, ‘নবীন ফ্যাশন’ প্রায় তিন বছর ধরে এই সেন্টারে ব্যবসা করছে এবং তারা কম দামে পণ্য বিক্রি ও বিভিন্ন সময়ে আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে। একই মার্কেটে ‘প্রিন্স ফ্যাশন’, ‘কিংস ফ্যাশন’ ও ‘আল মোস্তফা’-এর মতো পুরনো দোকানও রয়েছে।

গত ২০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ‘নবীন ফ্যাশন’ একটি বড় অফার ঘোষণা করে: দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি বিনামূল্যে, বাইকারদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল এবং রিকশা ভাড়াও ফ্রি। ফেসবুক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার ফলে জুমার নামাজের আগ থেকেই দোকানের সামনে প্রচুর ভিড় জমে যায়। একই সময়ে প্রায় ১০০-১২০টি মোটরসাইকেল আসা-যাওয়া করতে থাকে, যা দোকানের সামনে, পার্কিংয়ে এবং আশেপাশের দোকানগুলোর সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

‘নবীন ফ্যাশন’ কর্তৃপক্ষ এই চাপ সামলাতে না পেরে বিকেল ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে অফার স্থগিতের ঘোষণা দেয় এবং দোকানের শাটার নামিয়ে দেয়। তবে, তখনও ক্রেতারা পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও অগোছালো হয়ে যায়। এই অবস্থায় মার্কেটের নিরাপত্তা কর্মীরা কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ অন্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। তারা দোকানে গিয়ে ‘নবীন ফ্যাশন’-এর কর্মচারীদের সাথে কথা বলতে গেলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তখন উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ঈদ উপলক্ষে ওই মার্কেটে পূর্ব থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। দায়িত্বে থাকা এএসআই আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান যে দোকানের সামনে ও ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্রেতারা বিশৃঙ্খলভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভিড় সরিয়ে দেন। তার হস্তক্ষেপে কোনো মারামারি, ভাঙচুর বা লুটপাট হয়নি বলে ওসি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে তেল নেই, জমিতে পানি নেই: রংপুরের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির, দিশেহারা কৃষক

নবীন ফ্যাশনের বিশৃঙ্খলা: আদালতে ব্যাখ্যা দিলেন ওসি মর্তুজা

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে ‘নবীন ফ্যাশন’ নামক দোকানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আদালতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা। তিনি লিখিত জবাবে উল্লেখ করেন যে, আকর্ষণীয় অফারকে কেন্দ্র করে হঠাৎ অতিরিক্ত ভিড় এবং বাইকারদের চাপের ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে ওসি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, যদি আদালত পুলিশের কোনো ভুল খুঁজে পায়, তবে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন।

ওসি আদালতকে জানান, ‘নবীন ফ্যাশন’ প্রায় তিন বছর ধরে এই সেন্টারে ব্যবসা করছে এবং তারা কম দামে পণ্য বিক্রি ও বিভিন্ন সময়ে আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে। একই মার্কেটে ‘প্রিন্স ফ্যাশন’, ‘কিংস ফ্যাশন’ ও ‘আল মোস্তফা’-এর মতো পুরনো দোকানও রয়েছে।

গত ২০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ‘নবীন ফ্যাশন’ একটি বড় অফার ঘোষণা করে: দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি বিনামূল্যে, বাইকারদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল এবং রিকশা ভাড়াও ফ্রি। ফেসবুক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণার ফলে জুমার নামাজের আগ থেকেই দোকানের সামনে প্রচুর ভিড় জমে যায়। একই সময়ে প্রায় ১০০-১২০টি মোটরসাইকেল আসা-যাওয়া করতে থাকে, যা দোকানের সামনে, পার্কিংয়ে এবং আশেপাশের দোকানগুলোর সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

‘নবীন ফ্যাশন’ কর্তৃপক্ষ এই চাপ সামলাতে না পেরে বিকেল ৫টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে অফার স্থগিতের ঘোষণা দেয় এবং দোকানের শাটার নামিয়ে দেয়। তবে, তখনও ক্রেতারা পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও অগোছালো হয়ে যায়। এই অবস্থায় মার্কেটের নিরাপত্তা কর্মীরা কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ অন্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। তারা দোকানে গিয়ে ‘নবীন ফ্যাশন’-এর কর্মচারীদের সাথে কথা বলতে গেলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তখন উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

ঈদ উপলক্ষে ওই মার্কেটে পূর্ব থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। দায়িত্বে থাকা এএসআই আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান যে দোকানের সামনে ও ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্রেতারা বিশৃঙ্খলভাবে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভিড় সরিয়ে দেন। তার হস্তক্ষেপে কোনো মারামারি, ভাঙচুর বা লুটপাট হয়নি বলে ওসি জানান।