আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা অপরাধে জড়িয়েছেন, তারা যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যারা দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন বিনষ্ট করার পাশাপাশি আয়নাঘরের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের মধ্যে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মামুন খালেদ ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অন্য মামলায় পুলিশ হেফাজতে বা রিমান্ডে আছেন। তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি দায়িত্বে থেকে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
সিনিয়র এই আইনজীবী আরও বলেন, এই অভিযুক্তদের কোনো বর্ণাঢ্য কর্মজীবন নেই; তাদের কর্মকাণ্ডগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয়নাঘরের মতো অমানবিক কাজ করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সেফ হাউস তৈরি করে মানুষকে নির্যাতন, হত্যা ও গুম করার অসংখ্য অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আসছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আবু সাঈদের মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ৯ তারিখে রায়ের জন্য আছে এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ বাদ পড়েনি। তবে একজন আসামির বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজে উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু পরবর্তী দুই দিনের ঘটনায় তার সরাসরি অংশগ্রহণ পাওয়া গেছে এবং সেই বিষয়ে আলাদা মামলা ও তদন্ত চলছে। তাকে পরবর্তী দুটি মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য আবেদন জানানো হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেন, ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে বিগত সরকার পর্যন্ত যারা মূল হোতা ছিলেন এবং তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সে যেই হোক না কেন।
রিপোর্টারের নাম 

























