ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

অস্তিত্ব সংকটে লালমনিরহাটের তিন শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদাড়িয়া মসজিদ

লালমনিরহাটের স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন ‘নিদাড়িয়া মসজিদ’ বর্তমানে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পৌনে তিনশ বছরের পুরোনো এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও এর জরাজীর্ণ দশা স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলছে। দ্রুত সংস্কার ও বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করা না হলে উত্তরাঞ্চলের এই অমূল্য পুরাকীর্তিটি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

লোককথা অনুযায়ী, সুবেদার মনছুর খাঁ নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ফারসি ভাষায় ‘নিদাড়িয়া’ শব্দের অর্থ দাড়িহীন। কথিত আছে, সুবেদারের মুখে দাড়ি না থাকায় তিনি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছিলেন যে, দাড়ি গজালে তিনি মসজিদ নির্মাণ করবেন। সেই মান্নত পূরণে ১১৭৬ হিজরিতে এটি নির্মিত হয়। মসজিদটি দেখতে আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় করেন।

প্রায় ৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের এই মসজিদে তিনটি গম্বুজ ও চারটি পিলার রয়েছে। মসজিদের পাশে একটি ঈদগাহ ও কবরস্থান থাকলেও বর্তমানে এর দানকৃত জমির একটি বড় অংশ প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে স্কুলগামী শিশুসহ ২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া

অস্তিত্ব সংকটে লালমনিরহাটের তিন শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদাড়িয়া মসজিদ

আপডেট সময় : ১২:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটের স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন ‘নিদাড়িয়া মসজিদ’ বর্তমানে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত পৌনে তিনশ বছরের পুরোনো এই তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও এর জরাজীর্ণ দশা স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলছে। দ্রুত সংস্কার ও বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করা না হলে উত্তরাঞ্চলের এই অমূল্য পুরাকীর্তিটি চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

লোককথা অনুযায়ী, সুবেদার মনছুর খাঁ নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ফারসি ভাষায় ‘নিদাড়িয়া’ শব্দের অর্থ দাড়িহীন। কথিত আছে, সুবেদারের মুখে দাড়ি না থাকায় তিনি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছিলেন যে, দাড়ি গজালে তিনি মসজিদ নির্মাণ করবেন। সেই মান্নত পূরণে ১১৭৬ হিজরিতে এটি নির্মিত হয়। মসজিদটি দেখতে আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় করেন।

প্রায় ৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৬ ফুট প্রস্থের এই মসজিদে তিনটি গম্বুজ ও চারটি পিলার রয়েছে। মসজিদের পাশে একটি ঈদগাহ ও কবরস্থান থাকলেও বর্তমানে এর দানকৃত জমির একটি বড় অংশ প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।