বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শত শত পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শেরুয়া টবটতলা থেকে ধুনট মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একমাত্র সার্ভিস লেন ট্রাকের লম্বা লাইনে বন্ধ হয়ে আছে। অভিযোগ উঠেছে, তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (২০ এপ্রিল) সারাদিন তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে হাজার হাজার ট্রাকচালক, মালিক ও কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেসার্স স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের সামনে অন্তত তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ডিজেলের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। একই চিত্র কুদ্দুস, তৌহিদ ও মির্জাপুর ফিলিং স্টেশন এলাকাতেও দেখা গেছে। চালকদের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে তেলের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তারা ডিজেল পাচ্ছেন না। কক্সবাজারগামী ট্রাকচালক সেলিম বলেন, রোববার সকাল থেকে লাইনে আছি। গতকালও তেল পাইনি, আজ দেবে বললেও হঠাৎ জানানো হলো তেল দেওয়া হবে না। এতে পণ্য সময়মতো পৌঁছাতে পারছি না, আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে।
তেলের অভাবে মহাসড়কে ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং চালকদের দৈনন্দিন আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। অনেকেই পারিবারিক খরচ ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবহন খাতের পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিজেল না থাকায় কৃষকরা ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শেরপুর থেকে প্রতিদিন চাল, ধান, ভুট্টা, সবজি ও পোল্ট্রি ফিড দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ডিজেল সংকটে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ডিজেলচালিত যানবাহন রয়েছে। তেল সংকটের কারণে শ্রমিক পরিবারের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















