চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে অকাতরে রক্ত ঢেলেছে দেশের মানুষ। সেই রক্তের ঋণে ও অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে জনগণ যখন শান্তির সুবাতাস প্রত্যাশা করছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। তবে অন্যান্য দেশ যেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সংকট মোকাবিলা করছে, আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে ভেতরে ভেতরে ‘তেল নিয়ে ভয়ানক ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে, যা অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও কঠোরতার সঙ্গে মোকাবিলা করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য যানবাহনের যে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ রাত জেগে সিরিয়াল দিয়েও তেল পাচ্ছে না, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি তথ্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের এই অমিল জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরক্তি সৃষ্টি করছে। মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং ফলশ্রুতিতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে তেলের বুকিং ব্যবস্থা চালু করলে পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। গ্রাহক নিকটস্থ পাম্পের আইডিতে বুকিং দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন, এতে ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা—উভয়ই কমবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে এই মুহূর্তে আরও কঠোর ও কঠিন হতে হবে। বিশেষ করে অসাধু ব্যবসায়ী ও দলের কিছু সুবিধাভোগী নেতাকর্মী যারা অবৈধ তেলের মজুতদারিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিলেও দলীয় পরিচয়ে যারা এই অপকর্ম করছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত সাধারণের চেয়েও বেশি। কারণ যে কর্মী বা নেতা সংকটকালে সরকার ও দলের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের ছেঁটে ফেলাই দলের জন্য মঙ্গলজনক। কৃত্রিম জ্বালানি সংকট ঠেকাতে আপনি যে ‘চিরুনি অভিযানের’ নির্দেশ দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে এই নির্দেশ যেন মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে কার্যকর হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
দেশবাসীকে এটি জানানো জরুরি যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও সমপরিমাণ জ্বালানি আসার পথে রয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও সেচ ও পরিবহন খাতের কথা বিবেচনা করে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। এই তথ্যগুলো জনগণের মধ্যে জোরেশোরে প্রচার করতে হবে যেন কোনো ধরনের আতঙ্ক তৈরি না হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা বন্ধে বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখতে হবে।
নতুন এই সরকারকে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হলে প্রশাসন ও দলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার দৃঢ় নেতৃত্ব ও সময়োচিত পদক্ষেপই পারে এই কৃত্রিম সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে।
রিপোর্টারের নাম 

























