মানুষের স্মৃতি প্রায়শই ক্ষণস্থায়ী হয়। মাত্র দেড় বছর আগে সংঘটিত ২০২৪ সালের ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই বিপ্লবকে অনেকেই যেন ভুলতে বসেছে। অথবা একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে এই মহান মুক্তি আন্দোলনকে জনগণের মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করা একটি সমাজগোষ্ঠী এই বিপ্লবকে একটি ক্ষতিকর আন্দোলন হিসেবে চিত্রিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করার জন্য একটি ছোট ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকার একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, ‘ভালোই ছিলাম, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কিছু অসুবিধা হচ্ছে।’
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কী ধরনের অসুবিধা?’
তিনি বললেন, ‘ছাত্রদের আচরণে পরিবর্তন এসেছে, তারা আগের মতো সম্মান দেখাচ্ছে না।’
আমি অজ্ঞতার ভান করে বললাম, ‘ওহ, তাই নাকি?’ আমি আর জানতে চাইনি যে, ৫ আগস্টের আগে শেখ হাসিনার ‘সোনার ছেলেদের’ আচরণ কেমন ছিল। আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল জুলাই বিপ্লব সম্পর্কে তাঁর এই নেতিবাচক ধারণার কারণ অনুসন্ধান করা। অজ্ঞতার ভান করে কথা চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারি যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূলত শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যারা বাংলাদেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাসিনা সরকারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সুবিধা ভোগ করেছেন, তারা নানাভাবে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা এবং বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীরদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এই পরিস্থিতিতে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। তা হলো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা এবং এই বিপ্লবের শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
সেই উপলব্ধি থেকেই এই প্রবন্ধটি লেখার প্রয়াস।
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা কেন মৃত্যুকে উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিল?
২০২৪ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত একটি অযৌক্তিক কোটা ব্যবস্থার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল। এই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও নিষ্ঠুর। এই স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনকে দমন করার জন্য সরকার এমন এক অভিযান শুরু করেছিল, যা কেবল গণহত্যার একটি মার্জিত প্রতিশব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়।
রিপোর্টারের নাম 

























