ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হুমকি নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল? আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে এখন এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করতে দেওয়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং আরও বিপদে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে মূলত ইসরাইলকেই রক্ষা করে, আরবদের নয়। ইসরাইলের যুদ্ধংদেহী নীতি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী কৌশলেরই একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর শত্রুতা বাড়ানো এবং তাদের চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রকাশ্যে যোগ দিতে উসকানি দেওয়া। আমেরিকান ইহুদি বিলিয়নিয়াররা গত এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা উস্কে দিচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা প্রায় দেড় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা অ-খ্রিস্টান ও অশ্বেতাঙ্গ বিশ্বের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরুর আগে মার্কিন কমান্ডাররা তাদের সৈন্যদের বলেছিলেন যে, তাদের এই অভিযান ‘আর্মাগেডন’ বা ‘মহাযুদ্ধের’ পক্ষে একটি যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধ ‘যিশুর প্রত্যাবর্তন’ ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতির মধ্যে গভীর আদর্শগত বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে আছেন ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান ও ইহুদি জায়নবাদীরা, যারা ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে আছেন ডানপন্থী খ্রিস্টানরা, যারা বিশ্বাস করেন যে আমেরিকাকে ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধে টেনে আনা হচ্ছে। একইভাবে প্রগতিশীল ইহুদি সহ আমেরিকার বামপন্থীদের অনেকেই মনে করেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনে এনেছে। নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বার্থেই ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে প্ররোচিত করেছেন।

আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা শিল্প এবং জ্বালানি সংস্থাগুলো, বিশেষ করে প্যালান্টিয়ার, লকহিড মার্টিন, এক্সন, রেথিওন এবং বোয়িংয়ের মতো কোম্পানিগুলো এই যুদ্ধ থেকে সরাসরি লাভবান হচ্ছে এবং বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ করে, কারণ ইসরাইলের আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করে।

ওমান ছাড়া কোনো আরব সরকারই ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানায়নি। ওমান এই আগ্রাসনকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন আনসার আল্লাহ (হুতি) ছাড়া কোনো আরব দেশই ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হুমকি নাকি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল? আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:৪২:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছে এখন এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন করতে দেওয়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং আরও বিপদে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে মূলত ইসরাইলকেই রক্ষা করে, আরবদের নয়। ইসরাইলের যুদ্ধংদেহী নীতি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী কৌশলেরই একটি অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর শত্রুতা বাড়ানো এবং তাদের চলমান মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে প্রকাশ্যে যোগ দিতে উসকানি দেওয়া। আমেরিকান ইহুদি বিলিয়নিয়াররা গত এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা উস্কে দিচ্ছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা প্রায় দেড় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা অ-খ্রিস্টান ও অশ্বেতাঙ্গ বিশ্বের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরুর আগে মার্কিন কমান্ডাররা তাদের সৈন্যদের বলেছিলেন যে, তাদের এই অভিযান ‘আর্মাগেডন’ বা ‘মহাযুদ্ধের’ পক্ষে একটি যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধ ‘যিশুর প্রত্যাবর্তন’ ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতির মধ্যে গভীর আদর্শগত বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে আছেন ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান ও ইহুদি জায়নবাদীরা, যারা ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে আছেন ডানপন্থী খ্রিস্টানরা, যারা বিশ্বাস করেন যে আমেরিকাকে ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধে টেনে আনা হচ্ছে। একইভাবে প্রগতিশীল ইহুদি সহ আমেরিকার বামপন্থীদের অনেকেই মনে করেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনে এনেছে। নেতানিয়াহু ইসরাইলের স্বার্থেই ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণে প্ররোচিত করেছেন।

আমেরিকার প্রধান প্রতিরক্ষা শিল্প এবং জ্বালানি সংস্থাগুলো, বিশেষ করে প্যালান্টিয়ার, লকহিড মার্টিন, এক্সন, রেথিওন এবং বোয়িংয়ের মতো কোম্পানিগুলো এই যুদ্ধ থেকে সরাসরি লাভবান হচ্ছে এবং বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ করে, কারণ ইসরাইলের আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থ রক্ষা করে।

ওমান ছাড়া কোনো আরব সরকারই ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানায়নি। ওমান এই আগ্রাসনকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন আনসার আল্লাহ (হুতি) ছাড়া কোনো আরব দেশই ইরানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কোনো অবস্থান নেয়নি।