ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন কৌশল: বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় যুদ্ধ একটি আঞ্চলিক রূপ ধারণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের বাজারে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের’ (টিএনআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি বাস্তবিক অর্থেই একটি ‘কৌশলগত গলিপথে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই জলপথের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাসের জন্য স্থবির হয়ে যেতে পারে, যদিও অন্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই এই প্রণালিটি অবরুদ্ধ করেছে, যার ফলে পণ্য বাণিজ্যে বীমার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমান উপকূলের কাছে স্কাইলাইট, এমকেডি ভিওম, হারকিউলিস স্টারসহ অন্তত ২০টি জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবাহী নৌকার হামলার ঘটনা তেল বাণিজ্য ব্যাহত করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

টিএনআই উল্লেখ করেছে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সরু জলপথকে বাস্তবেই একটি মাইনফিল্ডে পরিণত করতে পারে। তাদের হাতে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার নৌমাইন রয়েছে এবং প্রণালির উভয়পাশের স্থাপনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা আইআরজিসির রয়েছে।

তবে ইরানের মাইন পোঁতার সক্ষমতা কেবল একটি দিক। আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, সেসব মাইন অপসারণের খুব বেশি সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নেই। ফলে তেহরানের এই হুমকি অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন অপসারণ বহর, যা চারটি অবসরে যাওয়া জাহাজ নিয়ে গঠিত, কেবল উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে পারে, যা এই হুমকির পরিসরের তুলনায় স্পষ্টতই অপর্যাপ্ত।

সংঘাতপূর্ণ জলসীমা থেকে হাজার হাজার মাইন অপসারণ করতে দীর্ঘ, কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রয়োজন হতে পারে। আর এই কর্মযজ্ঞ যতদিন চলবে, বৈশ্বিক তেলের বাজার ততদিন অস্থির থাকবে, বীমা প্রিমিয়াম আরও বেড়ে যাবে এবং তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে; ফলস্বরূপ বিশ্ব অর্থনীতি এক টালমাটাল অবস্থায় পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন কৌশল: বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় যুদ্ধ একটি আঞ্চলিক রূপ ধারণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাসের বাজারে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের’ (টিএনআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি বাস্তবিক অর্থেই একটি ‘কৌশলগত গলিপথে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই জলপথের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাসের জন্য স্থবির হয়ে যেতে পারে, যদিও অন্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই এই প্রণালিটি অবরুদ্ধ করেছে, যার ফলে পণ্য বাণিজ্যে বীমার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওমান উপকূলের কাছে স্কাইলাইট, এমকেডি ভিওম, হারকিউলিস স্টারসহ অন্তত ২০টি জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাবাহী নৌকার হামলার ঘটনা তেল বাণিজ্য ব্যাহত করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

টিএনআই উল্লেখ করেছে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সরু জলপথকে বাস্তবেই একটি মাইনফিল্ডে পরিণত করতে পারে। তাদের হাতে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার নৌমাইন রয়েছে এবং প্রণালির উভয়পাশের স্থাপনার মাধ্যমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা আইআরজিসির রয়েছে।

তবে ইরানের মাইন পোঁতার সক্ষমতা কেবল একটি দিক। আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, সেসব মাইন অপসারণের খুব বেশি সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নেই। ফলে তেহরানের এই হুমকি অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন অপসারণ বহর, যা চারটি অবসরে যাওয়া জাহাজ নিয়ে গঠিত, কেবল উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে পারে, যা এই হুমকির পরিসরের তুলনায় স্পষ্টতই অপর্যাপ্ত।

সংঘাতপূর্ণ জলসীমা থেকে হাজার হাজার মাইন অপসারণ করতে দীর্ঘ, কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রয়োজন হতে পারে। আর এই কর্মযজ্ঞ যতদিন চলবে, বৈশ্বিক তেলের বাজার ততদিন অস্থির থাকবে, বীমা প্রিমিয়াম আরও বেড়ে যাবে এবং তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে; ফলস্বরূপ বিশ্ব অর্থনীতি এক টালমাটাল অবস্থায় পড়বে।