ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক অবরোধের আট দিন পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলো কেন্দ্র করে চলাচলকারী অন্তত ২৭টি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে অথবা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই অবরোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া ওই বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ এই কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলে জানান, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যেসব জাহাজ সরাসরি ইরানের বন্দরগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের স্বাভাবিক চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে না। মূলত ইরানি বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
পাকিস্তান শাসিত ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নেয় ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো এই অবরোধের মূল পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য অবস্থান করছে।
রিপোর্টারের নাম 























