ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গণতন্ত্রের স্বপ্ন ও বেদনাদায়ক ইতিহাস: ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এই সংসদকে ঘিরে মানুষের স্বপ্ন এখন আকাশছোঁয়া। তবে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি জাতীয় সংসদের মধ্যে সাতটিই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি, যা একটি বেদনাদায়ক ইতিহাস। তিন পর্বের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পর বিএনপির ক্ষমতায় আসা দলটিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি জাতীয় সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের সংসদের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার ঘটনা। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ১২টি সংসদের মধ্যে সাতটিই অপূর্ণ থেকে গেছে। অন্যদিকে, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বেদনাদায়ক ইতিহাস সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর প্রথম ২৫ বছর এবং দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক চেতনার প্রায় মৃত্যু ঘটেছিল। মাত্র সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এর মধ্যে অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ ছিল বিতর্কিত ও একপেশে, যা জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়নি। যে জাতি গণতন্ত্রের জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেই জাতিকেই বারবার স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে থাকতে হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শোষণ থেকে মুক্ত হতে অস্ত্র হাতে নেওয়া জাতিটি এখন ২২শ’ বা তারও বেশি পরিবারের লুণ্ঠনের শিকার, যারা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এবং যারা বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। যে জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে তুলেছিল, সেই জাতি আজ নানাভাবে বিভক্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দম’ জয় করছে আমেরিকা, ‘প্রেশার কুকার’ যাচ্ছে লন্ডনে

গণতন্ত্রের স্বপ্ন ও বেদনাদায়ক ইতিহাস: ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা

আপডেট সময় : ১০:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এই সংসদকে ঘিরে মানুষের স্বপ্ন এখন আকাশছোঁয়া। তবে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি জাতীয় সংসদের মধ্যে সাতটিই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি, যা একটি বেদনাদায়ক ইতিহাস। তিন পর্বের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পর বিএনপির ক্ষমতায় আসা দলটিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি জাতীয় সংসদ মেয়াদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের সংসদের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার ঘটনা। সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ১২টি সংসদের মধ্যে সাতটিই অপূর্ণ থেকে গেছে। অন্যদিকে, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বেদনাদায়ক ইতিহাস সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে চুরমার করে দিয়েছে।

স্বাধীনতার পর প্রথম ২৫ বছর এবং দ্বাদশ সংসদ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক চেতনার প্রায় মৃত্যু ঘটেছিল। মাত্র সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল। তবে এর মধ্যে অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ ছিল বিতর্কিত ও একপেশে, যা জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়নি। যে জাতি গণতন্ত্রের জন্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেই জাতিকেই বারবার স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে থাকতে হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের ২২ পরিবারের শোষণ থেকে মুক্ত হতে অস্ত্র হাতে নেওয়া জাতিটি এখন ২২শ’ বা তারও বেশি পরিবারের লুণ্ঠনের শিকার, যারা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এবং যারা বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। যে জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে তুলেছিল, সেই জাতি আজ নানাভাবে বিভক্ত।