ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়: যোগ্যতা বনাম সততা

ঢাকার মিরপুরের এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার পর সে রাজনীতির হাত ধরে প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠে এবং যে শিক্ষক তাকে বহিষ্কার করেছিলেন, তাকেই সভাপতি হয়ে বহিষ্কার করে। সারা দেশে এমন উদাহরণ বিরল নয়, যা শিক্ষকসমাজসহ সুশীল সমাজকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, অন্তত একজন গ্র্যাজুয়েটের হাত থেকে বকা খাওয়া উত্তম। এই প্রেক্ষাপটে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ন্যূনতম ডিগ্রিধারী হওয়ার দাবি উঠেছে।

কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির একটি সনদ কি প্রধান শিক্ষকদের ইজ্জতের গ্যারান্টি হতে পারে? যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করছে, তারা কেউ অশিক্ষিত নয়, বরং অনেকেই বড় ডিগ্রিধারী। আমরা বাহ্যিক কারণ খুঁজে ফিরলেও মূল কারণ বিশ্লেষণ করি না, ফলে আমাদের সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও সঠিক হয় না। স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা বা না-করা নিয়ে সারা দেশ দ্বিধাবিভক্ত। কিছু বুদ্ধিজীবী স্বল্পশিক্ষিত কারো কাছ থেকে অনুদান নেওয়া আইন করে বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন। তবে, এই অধম মনে করিয়ে দিতে চায় যে, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যেও অনেক ‘ইতর’ বা অসৎ ব্যক্তি রয়েছেন।

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানুষ তৈরির কারখানায় পরিণত না হয়ে কিছু চতুর ও অসৎ ব্যক্তি সৃষ্টির কারখানায় পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ বের হলেও মানুষ বের হয় না। তাই, ‘মানুষ বানানোর কারখানা’ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই বার্তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং নৈতিক শিক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয়: যোগ্যতা বনাম সততা

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ঢাকার মিরপুরের এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার পর সে রাজনীতির হাত ধরে প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠে এবং যে শিক্ষক তাকে বহিষ্কার করেছিলেন, তাকেই সভাপতি হয়ে বহিষ্কার করে। সারা দেশে এমন উদাহরণ বিরল নয়, যা শিক্ষকসমাজসহ সুশীল সমাজকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, অন্তত একজন গ্র্যাজুয়েটের হাত থেকে বকা খাওয়া উত্তম। এই প্রেক্ষাপটে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ন্যূনতম ডিগ্রিধারী হওয়ার দাবি উঠেছে।

কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির একটি সনদ কি প্রধান শিক্ষকদের ইজ্জতের গ্যারান্টি হতে পারে? যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করছে, তারা কেউ অশিক্ষিত নয়, বরং অনেকেই বড় ডিগ্রিধারী। আমরা বাহ্যিক কারণ খুঁজে ফিরলেও মূল কারণ বিশ্লেষণ করি না, ফলে আমাদের সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও সঠিক হয় না। স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা বা না-করা নিয়ে সারা দেশ দ্বিধাবিভক্ত। কিছু বুদ্ধিজীবী স্বল্পশিক্ষিত কারো কাছ থেকে অনুদান নেওয়া আইন করে বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন। তবে, এই অধম মনে করিয়ে দিতে চায় যে, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যেও অনেক ‘ইতর’ বা অসৎ ব্যক্তি রয়েছেন।

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভালো মানুষ তৈরির কারখানায় পরিণত না হয়ে কিছু চতুর ও অসৎ ব্যক্তি সৃষ্টির কারখানায় পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ বের হলেও মানুষ বের হয় না। তাই, ‘মানুষ বানানোর কারখানা’ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই বার্তা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং নৈতিক শিক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।