দৈনিক জনকণ্ঠে গণছাঁটাই, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, সাংবাদিক-কর্মচারীদের হয়রানি এবং পত্রিকা অফিস বন্ধ রাখার প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তারা অবিলম্বে ছাঁটাই ও শোকজ প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পত্রিকা অফিস খুলে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জনকণ্ঠ ভবনের সামনে দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে সহায়তাকারী জনকণ্ঠ এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে। পলাতক হাসিনা ও তার সহযোগীদের ইন্ধনে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। গণহারে ছাঁটাই, শোকজ ও হয়রানির মাধ্যমে কর্মপরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।”
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম প্রধান বক্তার বক্তব্যে আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সাংবাদিক সমাজ দ্রুতই জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে আইন মেনে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে বাধ্য করবে। অনতিবিলম্বে ছাঁটাইপত্র ও শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পত্রিকা অফিস খুলে দিতে হবে।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, “জনকণ্ঠের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস নতুন নয়। অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এখনও সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে।” তিনি অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠের নির্যাতনের কারণে অনেক সাংবাদিক মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে সাংবাদিক সমাজ এমন আন্দোলন গড়ে তুলবে, যার মুখে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ টিকতে পারবে না।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক জনকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি ও ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম, মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, পত্রিকাটির ব্যবস্থাপনায় এখনও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ও ভারতীয় প্রভাববলয়ের ব্যক্তিরা সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক ও কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















